31.6 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ট্যারিফ রুলিংয়ের পর এশিয়ার বাণিজ্যিক পরিবেশে নতুন অনিশ্চয়তা

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ট্যারিফ রুলিংয়ের পর এশিয়ার বাণিজ্যিক পরিবেশে নতুন অনিশ্চয়তা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার একটি রায় দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে ঘোষিত বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী পণ্যের ওপর ১৫% নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই দিনে ইউএস কাস্টমস জানায় যে পূর্বে প্রয়োগিত স্বাক্ষরিত বাণিজ্য নীতির শুল্ক সংগ্রহ বন্ধ করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এশিয়ার বহু সরকার বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু মাসের আলোচনার পর চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শুল্কের অবৈধতা ঘোষণার ফলে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও চুক্তির বাস্তবায়ন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫% নতুন শুল্কের প্রস্তাব কিছু এশীয় দেশকে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি দিয়েছে, কারণ পূর্বের উচ্চ শুল্কের তুলনায় এটি কম। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে শুল্কের হার হ্রাস সত্ত্বেও ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের বিশ্লেষক আদম সামদিনের মতে, বর্তমান প্রশাসন শুল্ক রুলিং বাতিল হলেও উচ্চ শুল্কের লক্ষ্যে অটল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি এখনও কঠোর রক্ষার দিকে ঝুঁকবে, যা এশিয়ার বাণিজ্যিক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিগুলি ঐতিহ্যবাহী চুক্তির মতো স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা বহন করে না, ফলে ভবিষ্যতে শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে ছোট আকারের এশীয় অর্থনীতিগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তাদের নীতি পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেশি।

বড় দেশগুলোতে শুল্কের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি, ছোট দেশগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরছে। তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ কতটা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর নির্ভরশীল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চীন, যা এপ্রিলের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, রায়ের বিষয়বস্তু ও প্রভাবের ব্যাপক মূল্যায়ন চালাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে চীন একতরফা শুল্ক বৃদ্ধি বিরোধিতা করে এবং বাণিজ্য যুদ্ধের কোনো বিজয়ী নেই, সুরক্ষা নীতি কোনো সমাধান নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রীর বলেছেন, বর্তমান পরিবর্তন চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে শুল্ক নীতি পুনর্গঠন যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের জটিলতা বাড়াতে পারে।

সারসংক্ষেপে, সুপ্রিম কোর্টের রায় এশিয়ার বাণিজ্যিক দৃশ্যপটে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শুল্কের হার হ্রাস সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতি এবং এশিয়ার দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগ, চুক্তি এবং বাণিজ্য প্রবাহে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments