ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সময় নির্ধারণে চারটি বিকল্প উঠে আসে। এই বিকল্পগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সময়সীমা, কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
মার্কিন সরকার ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ট্রাম্পের সাইডে বিভিন্ন সময়সীমা বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের নতুন প্রস্তাবের আগমনের সময় ও তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রথম বিকল্পটি অনুযায়ী, ট্রাম্প বৃহস্পতিবারের মধ্যে সরাসরি হামলা চালানোর সম্ভাবনা রাখেন। তবে এই পদক্ষেপের আগে সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক বিকল্পগুলোকে পুনরায় যাচাই করা দরকার। ইরানের নতুন প্রস্তাব সময়মতো না এলে, এই বিকল্পটি সক্রিয় হতে পারে।
দ্বিতীয় বিকল্পটি বিশ্লেষকদের মতে সবচেয়ে সম্ভাব্য। এতে ট্রাম্প আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে অথবা সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে হামলা চালাতে পারেন। ইরানকে দুই সপ্তাহের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার পরেও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণে ট্রাম্পের কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য নেই, তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের কাছাকাছি সময়ে এই বিকল্পটি কার্যকর হতে পারে।
তৃতীয় বিকল্পটি ১৯ মার্চের পরে রমজান শেষের সময়ে হামলা চালানোর কথা বলে। পবিত্র মাসে আঞ্চলিক মিত্রদের প্রস্তুতি এবং ইরানের উচ্চপদস্থ কমান্ডার খামেনির সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কা এই বিকল্পকে প্রভাবিত করে। রমজান শেষের পর ট্রাম্পের পদক্ষেপ নেওয়া হলে, ধর্মীয় ও কৌশলগত দিক থেকে জটিলতা বৃদ্ধি পাবে।
চতুর্থ বিকল্পটি সবচেয়ে কম সম্ভাব্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নির্দেশ করে। ওয়াশিংটন থেকে দূর ভবিষ্যতের জন্য বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি চালু রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বৃহৎ যুদ্ধের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এই বিকল্পটি কেবল কৌশলগত দৃশ্যপটের অংশ হিসেবে উল্লেখিত।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, তিনি দীর্ঘ সময় অচলাবস্থায় থাকতে পারেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নেতাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উঠে আসে, যা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষকরা দ্বিতীয় বিকল্পকে সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে চিহ্নিত করেছেন। চলমান অচলাবস্থা, সামরিক ব্যয়, এবং রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপ ট্রাম্পকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করতে পারে। এই বিকল্পের বাস্তবায়ন হলে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
যদি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা মার্কিন সরকার এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রদের কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ট্রাম্পের চূড়ান্ত সময়সীমা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলাফলকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করবে।



