ঢাকা শহরের রায়েরবাজারে গ্যাস লাইন লিকেজের ফলে আগুন লেগে এক পরিবারে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি সোমবার ভোর ৪ টা থেকে ৫ টার মধ্যে ঘটেছে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী গ্যাসের লিকেজই আগুনের মূল কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। দগ্ধদের অবস্থা গুরুতর, তাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ৪০ বছর বয়সী মো. রোমান, তার ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী পিংকি, ৩ বছর বয়সী মেয়ে মায়ান এবং পিংকির ২২ বছর বয়সী ভাই অপু। পরিবারটি রায়েরবাজারের একটি ছয় তলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। রোমানের গ্রাম নেত্রকোণার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থিত।
চিকিৎসা সংস্থার সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, রোমানের দেহের প্রায় ২৫ শতাংশ, পিংকির ৭৫ শতাংশ, মায়ানের ২৪ শতাংশ এবং অপুর ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধতার মাত্রা অনুযায়ী রোগীদের তীব্র তাপীয় আঘাতের ঝুঁকি রয়েছে এবং তারা তীব্র তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্তসঞ্চালন সমর্থন এবং ত্বক প্রতিস্থাপনসহ জটিল চিকিৎসা পাচ্ছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসা দল দগ্ধদের তাত্ক্ষণিকভাবে শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করছে। ডা. শাওন উল্লেখ করেন, রোগীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও দগ্ধতার পরিমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে রোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী মামুনের মতে, পরিবারটি ছয় তলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল এবং রাতের ৪ টার দিকে হঠাৎ আগুন লেগে চারজনই দগ্ধ হয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে বাসার দরজা ও জানালা দিয়ে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা তৎক্ষণাৎ গ্যাসের গন্ধ ও ধোঁয়া লক্ষ্য করে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকে জানায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভিয়ে দগ্ধদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধারকালে দগ্ধদের শ্বাসনালী পরিষ্কার করা হয় এবং প্রাথমিক শল্যচিকিৎসা প্রদান করা হয়। এরপর তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত হয়।
স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস লিকেজের সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য গ্যাস কোম্পানির রেকর্ড ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে গ্যাস লাইনটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, যা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
গ্যাস লিকেজের ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দায়িত্বশীল সংস্থা বা ব্যক্তিরা গৃহীত আইনি পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে। রায়েরবাজারে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। স্থানীয় প্রশাসন গ্যাস লাইন নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ডা. শাওন বিন রহমানের মতে, দগ্ধদের চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে এবং শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বয় করে কাজ করছে। ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।



