মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রাক্তন চিফ প্রসিকিউটর, ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাংবাদিকদের সামনে তার পদত্যাগের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচিত সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়, এতে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।
তাজুল ইসলাম তার প্রায় সতের মাসের দায়িত্বকালের কথা স্মরণ করে বলেন, এই সময়ে তিনি আইসিটি-তে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন চিফ প্রসিকিউটরের সমর্থন কামনা করেন। তিনি নিজের বিদায়কে “অম্ল-মধুর” অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেন, কারণ তিনি দীর্ঘ সময়ের পর আবার তার মূল পেশায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, তিনি নতুন কর্মকর্তার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনি পূর্বে অবশিষ্ট থাকা দায়িত্বগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করবেন। তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল নতুন চিফ প্রসিকিউটরের জন্য শুভেচ্ছা জানানো এবং তার কাজের সাফল্যের জন্য কামনা করা।
কেন তিনি নিজের ইচ্ছা থেকে পদত্যাগ করেননি, এ প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন, সরকার তার কাছে পূর্বে জানিয়ে দেয় যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা রোববার জানানো হয়। তিনি বলেন, সরকার তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে তিনি কি পদত্যাগ করে চলে যেতে চান, কিন্তু তাকে জানানো হয়েছিল যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তিনি বদল হবেন, তাই অপ্রয়োজনীয় পদত্যাগের দরকার নেই।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারী পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই; একটি সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তার নীতি ও কর্মী পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পদত্যাগ করলে তা ভিন্ন বার্তা পাঠাতে পারে, তাই তিনি তা এড়িয়ে চলেছেন।
বিদায়ের পর তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাজুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তার মূল পরিচয় বজায় রাখবেন এবং আবার আদালতে তার পেশাগত দায়িত্বে ফিরে যাবেন। তিনি কোনো নতুন পদে যোগ দেবেন না এবং স্বল্প সময়ের জন্য বেকার থাকবেন না, বরং তার আইনগত ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন।
একই দিনে, বাংলাদেশ সরকার তাজুল ইসলামের বিদায়ের পর নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার তার পূর্ববর্তী নিয়োগ বাতিল করে নতুন কর্মকর্তাকে স্থাপন করে, যা তাজুল ইসলামের বিদায়ের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ঘটেছে।
এই পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাজুল ইসলামের মন্তব্য ও নতুন নিয়োগের প্রেক্ষাপট ভবিষ্যতে আইসিটি-র কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে, তা আন্তর্জাতিক আইনি সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে।



