১৯৭০ সালের জানুয়ারি মাসে, অস্ট্রেলিয়ার উলংগং শহরের ফেয়ারি মেডো বিচে তিন বছর বয়সী চেরিল গ্রিমার নামে ব্রিটিশ মেয়ে অদৃশ্য হয়। তার পরিবার, যা সম্প্রতি ব্রিস্টল থেকে টেন পাউন্ড পমস হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিল, তখনই তার নিখোঁজের খবর জানে। চেরিলের বড় ভাই রিকি ন্যাশ তখনই ছোট বোনদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে দূরে যাওয়ার সময় তাকে বাথরুমের দিকে পাঠানো হয়। তার পর চেরিলের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং ব্যাপক অনুসন্ধানেও কোনো সূত্র বের হয়নি।
বছরের পর বছর অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৭ সালে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তবে তার কিশোর বয়সে দেওয়া স্বীকারোক্তি আদালতে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, ফলে মামলাটি বাতিল হয় এবং সন্দেহভাজন তার দোষ অস্বীকার করে। সেই সময়ে প্রোসিকিউশনও মামলাটি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তী বছরগুলোতে চেরিলের পরিবার এবং জনসাধারণের চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২২ সালে বিএসসির “ফেয়ারি মেডো” পডকাস্টে এই ঘটনা পুনরায় আলোচিত হওয়ার পর নতুন সাক্ষীর উপস্থিতি ঘটায়। এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিবার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশকে পুনরায় তদন্তের আবেদন করে।
এনএসডব্লিউ পাবলিক প্রোসিকিউশন ডিরেক্টর স্যালি ডাউলিং পরিবারকে একটি চিঠি লিখে জানান যে, সাধারণত পুনর্বিবেচনার অনুরোধের সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তবুও তিনি বিশেষভাবে এই মামলাটি পুনরায় দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৯ সালে পুলিশ থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এখনই মামলাটি পর্যালোচনা করা সম্ভব, অথবা ডিটেকটিভরা নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
রিকি ন্যাশ এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বলেন, বহু বছর পর অবশেষে পরিবারকে ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবার কোনো অতিরিক্ত দাবি করছে না; কেবলমাত্র স্বচ্ছতা এবং প্রক্রিয়ার সঠিকতা চায়, যাতে কোনো অপরাধী প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বা প্রশাসনিক বিভাজনের আড়ালে লুকিয়ে না থাকতে পারে।
প্রাসঙ্গিক আইনি দিক থেকে, পুনরায় বিবেচনা করা হলে অতীতের অগ্রহণযোগ্য স্বীকারোক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে না, বরং ২০১৯ সালে পুলিশ যে নতুন প্রমাণ সংগ্রহ করেছিল তা নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হবে। এই প্রমাণের মধ্যে অতিরিক্ত সাক্ষীর বিবরণ, সম্ভাব্য স্থানীয় রেকর্ড এবং ঘটনাস্থল সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসারে, নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় খোলা সম্ভব। স্যালি ডাউলিংয়ের এই সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে বিশেষ অনুমোদন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ করতে হবে।
চেরিলের পরিবার এখন নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশকে পুনরায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। তারা আশা করে, অতিরিক্ত সাক্ষীর উপস্থিতি এবং অতীতের অপ্রকাশিত প্রমাণের সংমিশ্রণে শেষ পর্যন্ত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।
এই মামলাটি অস্ট্রেলিয়ার অপরাধ তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি দীর্ঘ সময়ের পরেও ন্যায়বিচার অর্জনের সম্ভাবনা দেখায়। পরিবার এবং সমর্থকরা এখনো আশা করে যে, পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে চেরিলের নিখোঁজের সত্যিকারের কারণ ও দায়ী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ পাবে।
যদিও এখনো কোনো নতুন দোষী সাব্যস্ত হয়নি, তবে পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তা পরিবারকে দীর্ঘ সময়ের কষ্ট থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
এই পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। পরিবার এবং সমর্থকরা অনুরোধ করছেন যে, তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হোক এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।



