মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ না করলে এমপিও প্রদান না করার নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি মাদ্রাসার শূন্য পদে, যেগুলো এনটিআরসিএ-এর আওতায় নয়, এখন থেকে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি নিয়োগের সময় নির্ধারিত কাঠামো মেনে চলতে হবে।
পূর্বে এই পদগুলোর নিয়োগে মাদ্রাসার নিজস্ব কমিটি সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হতো, তবে নতুন নীতিমালায় তা বাতিল করে কেন্দ্রীয় কাঠামো অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যদি কোনো মাদ্রাসা নির্ধারিত প্রক্রিয়া না মেনে নিয়োগ করে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে মাসিক পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) প্রদান করা হবে না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির একটি কপি দেশের সব বেসরকারি মাদ্রাসার সভাপতি, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি এবং প্রধান শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে নির্দেশনা সর্বজনীনভাবে পৌঁছায়।
নতুন কাঠামোতে প্রতিটি পদে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, বেতন স্তর এবং কাজের পরিধি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, ফলে অযোগ্য প্রার্থীর নিয়োগ রোধে সহায়তা করবে বলে অধিদপ্তর দাবি করেছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
এখন থেকে মাদ্রাসার নিয়োগ কমিটি নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রার্থীর ডকুমেন্ট যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, এবং সব নথি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।
যদি কোনো মাদ্রাসা এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে এমপিও না দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের অধিকারও প্রভাবিত হতে পারে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নীতিমালা অনুসরণ না করলে শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই সকল মাদ্রাসা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা শহরের একটি বেসরকারি মাদ্রাসা ইতিমধ্যে নতুন কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথি সিস্টেমে আপলোড করেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু মাদ্রাসা এখনও পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করে, ফলে তারা এমপিও পেতে বাধা পেতে পারে, যা শিক্ষকদের বেতন সময়মতো না পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি যদি নতুন নীতিমালা সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা ডাউনলোড করে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।



