32.7 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রিন্স অ্যান্ড্রু ট্যাক্সপেয়ারদের কাছ থেকে ম্যাসাজ ও ভ্রমণ ব্যয় কভার করান

প্রিন্স অ্যান্ড্রু ট্যাক্সপেয়ারদের কাছ থেকে ম্যাসাজ ও ভ্রমণ ব্যয় কভার করান

প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে, ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থে ম্যাসাজ সেবা এবং অতিরিক্ত ভ্রমণ ব্যয় কভার করার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এই অভিযোগ দুইজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভেন্টের কাছ থেকে এসেছে, যারা যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগে কাজ করতেন। তারা জানান, অ্যান্ড্রু একটি মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ম্যাসাজের খরচ সরকারী তহবিল থেকে বহন করার অনুরোধ করেন, যা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমোদন পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়।

একজন প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট, যিনি ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বাণিজ্য বিভাগে কাজ করতেন, তিনি এই ব্যয়কে অনুপযুক্ত বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমি ভেবেছিলাম এটা ভুল… আমি বলেছিলাম আমরা এটা দিতে পারি না, তবু শেষ পর্যন্ত আমরা দিলাম।” তিনি বলেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার আপত্তি উপেক্ষা করে ব্যয় অনুমোদন করেন।

অন্য এক সূত্র, যিনি হোয়াইটহল-এ আর্থিক তদারকি করতেন, একই ধরনের ব্যয় দেখেছেন এবং ব্যয়ের সত্যতা সম্পর্কে “সম্পূর্ণ নিশ্চিত” বলে মন্তব্য করেছেন। উভয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে চান, তবে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে তারা একমত যে অ্যান্ড্রু এই ধরনের ব্যয় গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

বাণিজ্য ও ব্যবসা মন্ত্রণালয় এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিরোধিতা করেনি, তবে প্রাক্তন রাজকুমারকে নিয়ে চলমান পুলিশ তদন্তের উল্লেখ করেছে। অ্যান্ড্রু নিজে এই দাবিগুলিকে অস্বীকার করে বলেছেন যে তিনি কোনো অনৈতিক কাজ করেননি এবং পেডোফিলিয়া আর্থিক জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও জানান, বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে তার পদবী বেতনের আওতায় না থাকলেও, তার ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ সরকারী তহবিল থেকে সমর্থিত ছিল।

এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের পর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের প্রাক্তন কর্মী উল্লেখ করেন যে, অ্যান্ড্রুর ম্যাসাজ ব্যয় অনুমোদন করা একটি ত্রুটি ছিল, যা তার আচরণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ হারিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বলতে পারি না যে এটা তাকে থামাতো, তবে আমরা এমন কিছু ভুলে গিয়ে ফ্ল্যাগ করা উচিত ছিল।” এই মন্তব্যটি নির্দেশ করে যে, ব্যয় অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় তদারকি ও নৈতিক মানদণ্ডের অভাব থাকতে পারে।

অ্যান্ড্রুর ভূমিকা বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে বেতনের আওতায় না থাকলেও, তার আন্তর্জাতিক সফর ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থে বহন করা হতো। এই ব্যয়গুলোর মধ্যে হোটেল, বিমান টিকিট এবং ম্যাসাজের মতো অতিরিক্ত সেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য অনুমোদিত নয়।

বিবাদিত ব্যয়গুলো ২০ বছরের পুরনো, তাই প্রমাণ সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে উভয় সূত্রের কথায় একমত যে, এই ধরনের ব্যয় অনুমোদন করা উচিত ছিল না এবং তা ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনো এই বিষয়ের উপর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতি ও প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি তদন্তে অ্যান্ড্রুর ব্যয় অনুপযুক্ত প্রমাণিত হয়, তবে সরকারী তহবিলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম আরোপের দাবি বাড়বে।

সারসংক্ষেপে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থে ম্যাসাজ ও অতিরিক্ত ভ্রমণ ব্যয় কভার করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা দুইজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভেন্টের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। মন্ত্রণালয় এখনও কোনো বিরোধিতা করেনি, তবে তদন্ত চলমান। ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নীতি সংশোধনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments