লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান আজ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এই পরিবর্তনটি সোমবার সকালেই সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ পায়। নতুন পিএসও হিসেবে তিনি দেশের সামরিক নীতি ও সমন্বয় কাজের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবেন।
অনুষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান হল ঘরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। ব্যাজ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মকর্তার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন যে, তিনি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সময়সূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। তিনজন সেবাপ্রধানের উপস্থিতি নতুন পিএসওর দায়িত্ব গ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং সামরিক শাখাগুলোর সমন্বয়কে শক্তিশালী করার সংকল্পকে পুনর্ব্যক্ত করে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন পিএসওর দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সমন্বয় কাজের তত্ত্বাবধান শুরু করবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের সামরিক ক্যারিয়ার ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভের সঙ্গে শুরু হয়। তার প্রথম দিকের দায়িত্বগুলোতে তিনি পায়ে পদক্ষেপে শত্রু বাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলা করার মৌলিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলেন।
কমিশন লাভের পর থেকে তিনি বিভিন্ন তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং দ্রুতই উচ্চতর পদে উন্নীত হন। তার ক্যারিয়ারের গতি ত্বরান্বিত হয় যখন তিনি বিভিন্ন পেশাদার কোর্সে অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনে প্রতিনিধিত্ব করেন।
সেনাবাহিনীর ২৪ ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ড) হিসেবে তিনি ডিভিশনের সামগ্রিক প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল পরিকল্পনা তত্ত্বাবধান করেন। এই পদে তার নেতৃত্বে ডিভিশনটি বহু বড় আকারের সামরিক অনুশীলন ও সীমান্ত রক্ষার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে।
এরপর তিনি সামরিক সচিবের দায়িত্বে নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবসম্পদ, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো পরিচালনা করেন। এই সময়ে তিনি সেনাবাহিনীর মানবসম্পদ নীতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে তিনি প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এই দায়িত্বে তিনি দেশের সামরিক সরঞ্জাম ও সিস্টেমের ক্রয় প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করেন, যা দেশের রক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করে। তার নেতৃত্বে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
নতুন পিএসও হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের সামরিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রয়োগ হবে।
এই নিয়োগটি সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের পুনর্গঠন ও নতুন দায়িত্ব প্রদানকে নির্দেশ করে। সরকার সামরিক শাখাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে এই ধরনের পদবিন্যাসে অগ্রগতি চালিয়ে যাচ্ছে।
অবশেষে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের নতুন দায়িত্বের সূচনা দেশের সামরিক নীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনার বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কাজকে সমন্বিত ও কার্যকর করে তোলেন, তা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



