বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘Wolfram’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি বিশ্বপ্রসঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। ছবিটি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে, এবং ওয়ারউইক থর্টন পরিচালনায় নির্মিত। প্রধান ভূমিকায় ডেবোরাহ মেইলম্যান, জেসন চং এবং অন্যান্য পরিচিত অভিনেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের দৈর্ঘ্যের এবং প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে।
ওয়ারউইক থর্টন, যিনি মূলত একজন অভিজ্ঞ সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন, ‘Wolfram’ পরিচালনায় তার দৃশ্যশৈলীর গভীরতা প্রকাশ করেছেন। অ্যালিস স্প্রিংসের নিকটবর্তী মরুভূমি ও ম্যাকডোনেল পর্বতমালার সঙ্গে তার শৈশবের সংযোগ, ছবির ভিজ্যুয়াল গঠনকে প্রভাবিত করেছে। এই প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তার অন্তর্নিহিত সম্পর্ক, ছবির প্রতিটি দৃশ্যকে স্বতন্ত্র রঙে রাঙিয়ে তুলেছে।
‘Wolfram’ চারটি অধ্যায়ে গঠিত, যেখানে পালিয়ে যাওয়া, তাড়া করা এবং বেঁচে থাকার গল্প একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিটি অংশে চরিত্রদের মুখোমুখি হওয়া কঠিন পরিস্থিতি এবং তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা দেখা যায়। যদিও ছবিতে কিছু দৃশ্য কঠোর এবং রক্তাক্ত, মূল বার্তা হল মানবিক সহনশীলতা এবং আত্মরক্ষার ক্ষমতা।
এই চলচ্চিত্রটি থর্টনের ২০১৭ সালের ‘Sweet Country’ ছবির ধারাবাহিক হিসেবে বিবেচিত হয়। উভয় ছবিই উত্তর অস্ট্রেলিয়ার কাল্পনিক শহর হেনরির পারিপার্শ্বিক পরিবেশে স্থাপিত, যদিও ‘Wolfram’ এ বেশিরভাগ চরিত্র নতুন। একই লেখক দল—স্টিভেন ম্যাকগ্রেগর ও ডেভিড ট্র্যান্সটার—দুই ছবিই একসাথে লিখেছেন, যা দুটি কাজের মধ্যে থিম্যাটিক সেতু গড়ে তুলেছে।
‘Wolfram’ এর ঘটনাবলী ‘Sweet Country’ এর কয়েক বছর পরের সময়ে সংঘটিত হয়, একই কাল্পনিক শহরের পটভূমিতে। যদিও স্থানীয় নাম ও পরিবেশ অপরিবর্তিত থাকে, নতুন চরিত্র ও গল্পের মোড় ছবিটিকে স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়। এই সময়সীমা এবং স্থানীয় ধারাবাহিকতা, দর্শকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রের মতো কাজ করে।
চলচ্চিত্রের মূল থিম পরিবার ও সম্প্রদায়ের গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে। চরিত্রগুলো কঠিন পরিস্থিতিতে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে, যা আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্যবাহী সংহতির প্রতিফলন। এই সামাজিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে, যা দর্শকদেরকে মানবিক সম্পর্কের মূল্যবোধের দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করে।
ডেবোরাহ মেইলম্যান, এরারল শ্যান্ড, জো বার্ড, থমাস এম. রাইট, ম্যাট নেবল, পেড্রিয়া জ্যাকসন, ইলি হার্ট, হেজেল মে জ্যাকসন, ফের্ডিনান্ড হোয়াং, জেসন চংসহ আরও বহু অভিনেতা ছবিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের প্রত্যেকের পারফরম্যান্স ছবির বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং চরিত্রগুলোর গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র প্যান্সি, ডেবোরাহ মেইলম্যানের অভিনয়ে, নবজাতক শিশুকে হাতে নিয়ে রুক্ষ ছুরি দিয়ে নিজের চুল কেটে ফেলছেন। এই দৃশ্যটি ছবির শুরুর মুহূর্তে দেখা যায়, যেখানে প্যান্সি ও তার নতুন সঙ্গী ঝ্যাং (জেসন চং) কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই যাত্রা শুরু করে। তার অভিব্যক্তি ও নীরবতা, চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে প্রকাশ করে।
ঝ্যাং, ছবিতে জেসন চং অভিনয় করেছেন, প্যান্সির সঙ্গে একসাথে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাদের সম্পর্কের সূচনা এবং পরবর্তী সংঘর্ষ, ছবির গতি ও উত্তেজনা নির্ধারণ করে। অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলোও গল্পের প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পুরো ছবিকে জটিল ও সমৃদ্ধ করে তোলে।
‘Wolfram’ বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রটি তার দৃশ্যমান গুণমান, গল্পের গঠন এবং আদিবাসী সংস্কৃতির সূক্ষ্ম উপস্থাপনের জন্য প্রশংসা পেয়েছে। যদিও কিছু সমালোচক ছবির কঠোর দৃশ্যকে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেছেন, তবে সামগ্রিকভাবে এটি মানবিক সহনশীলতার একটি শক্তিশালী চিত্র হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।



