সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঢাকা শহরের সরকারী ভবনে বাংলাদেশ সরকার এবং মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে সমন্বয় সাধন করা।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় দেশই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পারস্পরিক সমর্থন প্রকাশ করেছে। এছাড়া, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর কার্যকরী বাস্তবায়ন এবং নতুন সহযোগিতা ক্ষেত্রের অনুসন্ধানও আলোচনার অংশ ছিল।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গভীর করা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তারা বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রবাহ বাড়াতে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে আগ্রহী। এছাড়া, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তথ্য শেয়ারিং ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়।
মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল সেবা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রস্তুত। এছাড়া, দু’দেশের নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার হুমকির মোকাবিলা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকের পর উভয় পক্ষ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য বিশেষ কর্মদল গঠন, নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের সময়সূচি নির্ধারণ এবং পরবর্তী ত্রৈমাসিকের মধ্যে প্রথম ফলাফল উপস্থাপন অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বাণিজ্যিক বাধা হ্রাসের জন্য প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হবে।
সম্প্রতি বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং মার্কিন সরকার উভয়ই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। পূর্বে দুই দেশের নেতৃবৃন্দের উচ্চ পর্যায়ের সফর, বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর এবং শিক্ষাবিদ্যা বিনিময় প্রোগ্রাম এই সম্পর্ককে মজবুত করেছে। বর্তমান বৈঠকটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগের সূচনা করতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলো কেবল অর্থনৈতিক দিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ সরকার এবং মার্কিন সরকার উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী।
বৈঠকের সমাপ্তিতে উভয় পক্ষই পরবর্তী মাসে দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই সংলাপের মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে। এভাবে, বাংলাদেশ সরকার এবং মার্কিন সরকার ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করেছে।



