বাবর আজমের টি-টুয়েন্টি ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল অভ্যন্তরীণভাবে তীব্র মতবিরোধে জর্জরিত। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে খেলা বাতিল হলেও, বাবরের অবস্থান নিয়ে টক শোতে উত্তাপ কমেনি। শো’তে শোয়েব আখতার সরাসরি বললেন, বাবরের জন্য এই ফরম্যাট থেকে সরে যাওয়া উচিত, অথবা অন্তত ওপেনার হিসেবে খেলতে হবে।
শোয়েবের মন্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাবরের চার নম্বর অবস্থানকে ‘ভুল’ বলে চিহ্নিত করা। তিনি জোর দিয়ে বললেন, যদি বাবরকে টি-টুয়েন্টিতে রাখতে হয়, তবে তাকে প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে ব্যাটিং শুরু করতে হবে, অন্যথায় তার উপস্থিতি দলের জন্য কোনো লাভ না। শোয়েবের মতে, এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কেবল তার ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা, বাস্তবিক কোনো ট্যাকটিক্যাল সুবিধা নয়।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচ মাইক হেসন বাবরের চার নম্বর অবস্থানের পেছনে ‘ব্যাটিং দক্ষতা’কে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। হেসনের মতে, বাবর শুরুর দিকে দ্রুত রান সংগ্রহ করতে পারেন না এবং দশ ওভারের পর গতি পরিবর্তনেও সমস্যায় পড়েন, তাই মিডল অর্ডারে তাকে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই যুক্তি হেসন ধারাবাহিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করে দলের কৌশলকে সমর্থন করছেন।
এর বিপরীতে, সাবেক পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ হেসনের ব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হাফিজের মতে, বাবরের শুরুর এবং শেষের পারফরম্যান্সের দোষ দিয়ে তাকে চারে রাখা যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাবরকে যদি একাদশে রাখতে হয়, তবে টপ অর্ডার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই; চার নম্বর অবস্থান তার জন্য উপযুক্ত নয়। হাফিজের মন্তব্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।
বাবরের টি-টুয়েন্টি রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। ১৩৫টি ইনিংসে ৪৫৭১ রান করে গড় ৩৯.০৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৮.১৮ বজায় রেখেছেন। এছাড়া তিনি সর্বোচ্চ পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের সংখ্যা, মোট ৪২টি, অর্জন করেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রমাণ।
এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও, পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখনও বাবরকে চারে রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে। দলের ব্যবস্থাপনা এই কৌশলকে ‘ভুল’ বলে সমালোচনা করা হলেও, তারা এখনও একই পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যা খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে মতবিরোধকে তীব্র করে তুলেছে। শোয়েবের মতে, এই অব্যাহত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবরের ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাবরের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোর প্রস্তুতি চলমান। যদিও ম্যাচের সূচি ও প্রতিপক্ষের তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, তবে দলটি এই সময়ে কৌশলগত সমন্বয় এবং খেলোয়াড়দের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে অনুমান করা যায়।
সারসংক্ষেপে, বাবর আজমের টি-টুয়েন্টি ভূমিকা নিয়ে শোয়েব আখতার, মাইক হেসন এবং মোহাম্মদ হাফিজের মতবিরোধ স্পষ্ট। শোয়েবের মতে, বাবরকে অথবা তৎক্ষণাৎ ওপেনার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, অথবা পুরো ফরম্যাট থেকে সরে যাওয়া উচিত। হেসন ব্যাটিং দক্ষতার ভিত্তিতে চার নম্বর অবস্থানকে যুক্তি দেন, আর হাফিজ টপ অর্ডারকে একমাত্র উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে জোর দেন।
বাবরের বিশাল রেকর্ড সত্ত্বেও, তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে চলমান বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা নীতির উপর প্রশ্ন তুলছে। ভবিষ্যতে এই মতবিরোধের সমাধান দলকে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে কীভাবে ব্যবহার করবে তা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।



