29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসরকারি বাসভবনে সাবেক উপদেষ্টাদের বাসস্থান শেষ, মার্চে ভাড়া আরোপ

সরকারি বাসভবনে সাবেক উপদেষ্টাদের বাসস্থান শেষ, মার্চে ভাড়া আরোপ

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, গত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমান মাসের শেষের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিতে হবে। এই পদক্ষেপের পেছনে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং নতুন মন্ত্রীর জন্য বাসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যদি কোনো উপদেষ্টা বিশেষ কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাসের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। তবে এই সময়সীমা অতিক্রম করলে, মার্চ বা এপ্রিল মাসে বাসা ব্যবহার করলে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি তার যমুনা সরকারি বাসভবন ত্যাগ করে ঢাকার গুলশানে নিজের বাড়িতে স্থানান্তরিত হবেন বলে জানা গেছে। তার পরেও কোনো সাবেক উপদেষ্টা বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ফেব্রুয়ারি পর বাসা ব্যবহার করার অনুরোধ পাওয়া যায়নি।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন নীতি রয়েছে, তবে উপদেষ্টাদের জন্য এমন কোনো নীতি গৃহীত হয়নি এবং তারা পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও জানান, বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এক মাসের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতে পারে, তবে সেই সময়ে ভাড়া সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে মোট ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ করা আছে। এই সম্পত্তিগুলোর পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাদের জন্য আরেকটি সরকারি বাসভবন রয়েছে। মন্ত্রণালয় দ্রুত এই বাসাগুলো মেরামত করে এক মাসের মধ্যে বর্তমান মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করতে চায়।

আবাসন পরিদপ্তর আশা করে যে, বাসাগুলো খালি হয়ে গেলে রঙ করা ও মেরামত শেষ করে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ করা হবে। এই কাজটি মার্চের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে, সব আবেদনকারীর জন্য বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হবে।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবাসন দপ্তরে আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে কোন বাসা কাকে বরাদ্দ করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও আবাসন পরিদপ্তরের শীর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর আবেদনগুলো নবনিযুক্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের দপ্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবেদনকারীদেরকে কোন বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে ইচ্ছা আছে, তা জানাতে তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে মন্ত্রীর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

কয়েকজন আবেদনকারী ইতিমধ্যে বাসাগুলো পরিদর্শন করে তাদের পছন্দের বাসা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছেন। পরিদর্শনের ফলাফল অনুযায়ী মন্ত্রী সুমন দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এই বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়া শেষ হলে, নতুন মন্ত্রীর দায়িত্বকালে সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, উপদেষ্টাদের জন্য নীতি না থাকায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন নির্দেশনা তৈরি হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাবেক উপদেষ্টাদের বাসা ত্যাগের সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি, বর্তমান মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য বাসা মেরামত ও পুনর্বণ্টনের পরিকল্পনা চালু করেছে, যা মার্চের শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments