ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ভবনে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘আলো’ শিরোনামের শিল্প প্রদর্শনী গতকাল থেকে দর্শকদের স্বাগত জানাচ্ছে। আগুনে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ভেতরে বিশিষ্ট শিল্পী মাহবুবুর রহমানের কাজগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সাধারণ নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকসহ বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। তারা ধ্বংসের দৃশ্য দেখে বিস্ময় ও ক্রোধের মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
দর্শকগণ ভবনের আগুনের পেছনের ঘটনার স্মরণ করিয়ে দিয়ে, উগ্রবাদী হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি এবং নতুন সরকারের থেকে শক্তিশালী পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা দেশের, জাতির ও ভাষার স্বার্থ রক্ষার জন্য এই ধরনের সহিংসতা রোধে তীব্র নীতি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগের বছর ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী প্রথম আলো ভবনে অনুপ্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং পরে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। সেই ঘটনার পর থেকে ভবনটি পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে, এবং এখনই এই পুনর্গঠিত স্থানে শিল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীটি প্রতিদিন দু’বার, সকাল ১১টা থেকে ১টা এবং বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। এই সময়সূচি সকল দর্শকের জন্য উন্মুক্ত, যাতে তারা কাজগুলো পর্যবেক্ষণ করে শিল্পের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।
শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে, ইউল্যাবের ব্যবসায় প্রশাসন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে মৌমিতা হালদার, রুহুল আমিন, উচ্ছ্বাস আহমেদ, মাইমুনা প্রমা সহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
ছাত্রছাত্রীরা ভবনের ধ্বংসাবশেষের মাঝেও শিল্পের ইতিবাচক দিককে তুলে ধরার প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেন। তারা জানান, এই পরিবেশ তাদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে উজ্জীবিত করেছে।
প্রদর্শনীতে মাহবুবুর রহমানের বিভিন্ন চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য এবং ইনস্টলেশন অন্তর্ভুক্ত, যা ধ্বংসের পরেও পুনর্জন্মের থিমকে প্রতিফলিত করে। দর্শকরা কাজগুলোকে মানবিক পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
বহু বিদেশি দর্শকও এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক শিল্পের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তারা ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বর্তমান শিল্পের সমন্বয়কে প্রশংসা করেছেন।
প্রদর্শনী পরিচালনাকারী দল ভবনের পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন আক্রমণ রোধ করা যায়। তারা নিরাপদ পরিবেশে শিল্পের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এই শিল্প ইভেন্টের মাধ্যমে শহরের সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন আলো জ্বলে উঠেছে, যদিও তা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ঘটছে। স্থানীয় ব্যবসা ও ক্যাফে গুলোও দর্শকদের সেবা প্রদান করে, যা এলাকার অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে সমর্থন করে।
প্রদর্শনী শেষের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, সংগঠকরা আগামীতে আরও সমন্বিত শিল্প প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যাতে ধ্বংসের পরেও সৃজনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়া যায়।



