দক্ষিণ আফ্রিকা এ ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপের সুপার ইটস প্রথম ম্যাচে ৭৬ রানের পার্থক্যে ভারত একে পরাজিত করে, যার ফলে ভারত এয়ের ধারাবাহিক ১২টি জয় শেষ হয়। ম্যাচটি আহমেদাবাদের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং দু’দলই টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৮৭ রানের লক্ষ্য স্থাপন করে ৭ উইকেটের সাথে শেষ করে, যেখানে ডেভিড মিলার দলের সবচেয়ে বড় অবদান রাখে। মিলার ৩৫ balls-এ ৬৩ রান তৈরি করে, যা তার দ্রুত আউটিং এবং আক্রমণাত্মক শটের মাধ্যমে অর্জিত হয়। তার এই পারফরম্যান্সই ম্যাচের প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের শিরোপা এনে দেয়।
মিলারের আক্রমণাত্মক শটের পাশাপাশি ট্রিস্টান স্টাবসের শেষের দিকে করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হিটও স্কোরকে বাড়িয়ে দেয়। স্টাবসের দ্রুত রানের যোগে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ১৮৭/৭ এর শক্তিশালী মোট স্কোর তৈরি করে, যা পরবর্তী ধাপে ভারত একে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
ভারত এয়ের শিকড়ে গিয়ে দেখা যায়, তারা ১৮.৫ ওভারে মাত্র ১১১ রানে আটকে যায়। শুরুর সময়ে ভাল শুরুর আশা থাকা সত্ত্বেও, ভারত এয়ের ব্যাটিং লাইনআপ ধারাবাহিকভাবে চাপের মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সব আউট হয়ে যায়। এই ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের প্রথম ব্যাটিং চ্যালেঞ্জে ব্যর্থতা হিসেবে রেকর্ড হয়।
বোলিং দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের মারকো জ্যানসেনের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য। তিনি ৪ উইকেট নেয়ার সঙ্গে ২২ রান conced করে, যা ভারত এয়ের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ফাটল তৈরি করে। স্পিনার কেশব মহারাজও ৩ উইকেট নেয়ার সঙ্গে ২৪ রান conced করে, যা পিচের শর্তে শৃঙ্খলা ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মিলার ম্যাচের পর প্রকাশ্যে জানান যে এই জয়টি শুধু রানের হিসাব নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে কারণ দলটি সহজ বিষয়গুলোর উপর মনোযোগ দিয়ে, নিজের পথে অটল থেকে কাজ সম্পন্ন করেছে। তার মতে, এই ধরনের টুর্নামেন্টে মনোযোগ এবং শৃঙ্খলা সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
দক্ষিণ আফ্রিকা এয়ের অধিনায়ক আইডেন মার্ক্রামও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পিচের ধরণ এখানে পূর্বের তুলনায় ভিন্ন ছিল, তবে দলটি দ্রুত তা বুঝে সঠিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বোলিং ইউনিটের কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা আজকের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপের সুপার ইটস পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে। ভারত এয়ের ১২ ম্যাচের জয়ধারা শেষ হওয়ায় টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্যও সতর্কতা সংকেত পাঠায় যে কোনো দলই অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ আগামী ম্যাচে গ্রুপের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলটি এখন পর্যন্ত প্রদর্শিত ধারাবাহিকতা ও অভিযোজন ক্ষমতা বজায় রেখে শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ডেভিড মিলারের দ্রুত ৬৩ রানের পারফরম্যান্স, মারকো জ্যানসেন ও কেশব মহারাজের কার্যকর বোলিং, এবং দলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এ ৭৬ রানের পার্থক্যে ভারত একে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।



