বঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যসভার সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা মুকুল রায় গত রবিবার রাতের দিকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স ৭১ বছর।
স্থানীয় সময় রাতের গভীর সময়ে রায়ের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রোগের দীর্ঘমেয়াদী প্রকৃতি তাকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবার দরকারে ফেলেছিল।
মুকুল রায়ের স্বাস্থ্যগত অবস্থা কিডনি সমস্যাসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিল, যা তাকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য করেছিল। নিউ টাউনের একটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময়ের জন্য তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে তিনি কলকাতার অন্য এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন।
রাজনৈতিক জগতে তার দীর্ঘায়ু কর্মজীবন বহু দশক জুড়ে বিস্তৃত। তিনি প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কংগ্রেসের ঘাঁটিতে তার প্রথম পদক্ষেপ তাকে স্থানীয় স্তরে পরিচিতি এনে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তৃণমূলের গঠন ও বিকাশে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। দলীয় কাঠামো গড়ে তোলার সময় তিনি কংগ্রেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন কৌশল প্রয়োগ করেন।
রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মুকুল রায়ের দুই মেয়াদে কাজের পরিধি বিস্তৃত ছিল। তিনি জাহাজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। উভয় মন্ত্রণালয়ে তার কর্মকালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা হয়।
বছরের পর বছর পার্টি পরিবর্তনের পর মুকুল রায় কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন বিজেপিতে যোগ দেন। তার এই পরিবর্তন রাজনীতিতে নতুন গতিপথের সূচনা করে এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে।
মুকুল রায়ের মৃত্যুর পর তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চপদস্থ নেতারা শোক প্রকাশ করে এবং তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়। তারা উল্লেখ করেন যে, তার রাজনৈতিক বুদ্ধি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দলকে বহু বছর সেবা করেছে।
কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও রায়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে সম্মানিত করেন। তারা বলেন, রায়ের রাজনৈতিক পথচলা কংগ্রেসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বিজেপির নেতৃবৃন্দও রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা উল্লেখ করেন, রায়ের সঙ্গে কাজের সময় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মূলে থাকা ছিল।
রাজনৈতিক সমাবেশে রায়ের প্রস্থানকে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্কের অভাবে পার্টিগুলো ভবিষ্যতে কৌশলগত সমন্বয় পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, রায়ের অনুপস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গঠন ও নেতৃত্বের পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন মুখের উত্থান ও পুরনো কাঠামোর পুনর্বিবেচনা সম্ভাব্য দিক হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে।
বঙ্গের রাজনীতিতে মুকুল রায়ের দীর্ঘায়ু অবদানকে স্মরণ করে, বিভিন্ন দল শোকের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে। তার মৃত্যু রাজনৈতিক মঞ্চে একটি শূন্যতা রেখে গেছে, যা পরবর্তী সময়ে কীভাবে পূরণ হবে তা এখনো অনিশ্চিত।



