লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হল ২০২৬ সালের বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের গৌরবময় অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানায়। রবিবার সন্ধ্যায় বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়ে সোনার মাস্কের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। অনুষ্ঠানটি বাফ্টার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিনের উপস্থিতিতে আরও মর্যাদা পায়।
রাতের হোস্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন শো “দ্য ট্রেইটর্স”-এর অ্যালান কামিংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি উপস্থিত অতিথিদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে তিনের গণনা দিয়ে একসাথে চিৎকার করার আহ্বান জানান, যা মঞ্চে হালকা হাসি-খুশি তৈরি করে। এরপর তিনি পল মেসকালের সঙ্গে মজার আলাপ চালিয়ে যান, যেখানে মেসকাল প্রায়শই প্রশ্নের উত্তরে “না” বলে, একবারই ফোনে ধরা পড়ার পর ব্যতিক্রম ঘটে।
অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, জেসি বাকলি, কেট হাডসন, ক্লোই ঝাও, পল থমাস অ্যান্ডারসন, টিমোথি শালামেট এবং কাইলি জেনারসহ বহু তারকা উপস্থিত ছিলেন। রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি, শিল্পের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরা একে অপরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে রাতের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
রায়ান কুগলার এবং জোয়াকিম ট্রিয়ার রাত জুড়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান। দুজনই একে অপরের কাজের প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে, যা মঞ্চের পেছনে বন্ধুত্বের দৃশ্য তৈরি করে। ট্রিয়ারকে কুগলার তার সর্বোত্তম মূল স্ক্রিপ্টের স্বীকৃতি বক্তৃতায় “মেন্টর” বলে উল্লেখ করেন, যা শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
অ্যাওয়ার্ডের প্রধান মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল “সিনার্স” চলচ্চিত্রের তিনটি জয়, যা বাফ্টা ইতিহাসে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে। একই সঙ্গে “সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু” চলচ্চিত্রটি ইংরেজি নয় এমন সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। এই বিজয়গুলো শিল্পের বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতাকে তুলে ধরেছে।
কুগলার তার স্বীকৃতি বক্তৃতায় ট্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “তোমার দিকনির্দেশনা ছাড়া আজকের এই স্বীকৃতি সম্ভব হতো না”। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশটি শিল্পের মধ্যে পরস্পর শিক্ষার সম্পর্ককে জোর দেয়।
অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি, কামিংকে টৌরেটের সংক্রান্ত সতর্কতা বারবার পাঠ করতে হয়। প্রথম দিকের ২০ মিনিটে টৌরেট রোগী জন ডেভিডসন, যিনি “আই স্বেয়ার” চলচ্চিত্রের জন্য নোমিনেটেড, মঞ্চে উঠে উপস্থাপনাকারীদের দিকে গালি ও চিৎকার করেন। তিনি টৌরেট সিনড্রোমকে একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে, শোয়ের সময় শোনা টিকগুলোকে ব্যাখ্যা করেন।
এই সময়ে মঞ্চে সঞ্চালিত পুরস্কার প্রদান প্রক্রিয়াটি এক ধরনের ঘূর্ণায়মান দরজা হিসেবে কাজ করে। বিজয়ীরা একে পরের দিকে উঠে, আবার নিচে নামতে থাকে, যা দর্শকদের জন্য ধারাবাহিক উত্তেজনা তৈরি করে। রায়ান কুগলার এবং জোয়াকিম ট্রিয়ার প্রায়ই একে অপরকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানিয়ে, মঞ্চের উষ্ণতা বাড়িয়ে তোলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তির পর, নেটওয়ার্কের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত একটি আলাদা পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। এই পার্টিতে শিল্পের সব স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে রাতের সাফল্য উদযাপন করেন এবং পরবর্তী বছরের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের এই রঙিন রাতটি লন্ডনের সাংস্কৃতিক দৃশ্যকে সমৃদ্ধ করে, এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।



