29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপ্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত পদে গ্রেপ্তার

প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত পদে গ্রেপ্তার

প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গোপন তথ্য সরবরাহের সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারটি বৃহস্পতিবার ঘটেছে এবং তার ওপর ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজের সময় জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে গোপনীয় তথ্য বিনিময় করার অভিযোগ রয়েছে।

রাজা চার্লস তৃতীয়ের শাসনকাল ২০২২ সালে মা দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর শুরু হয়। তার অভিষেক অনুষ্ঠান ২০২৩ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত হয়, যা ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শাসনকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক ও স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি প্রকাশ পায়।

প্রথমেই ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রিন্স হ্যারি তার আত্মজীবনী “স্পেয়ার” প্রকাশ করে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও অভিযোগ উন্মোচিত করেন। হ্যারি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করলেও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব সম্পূর্ণভাবে সেরে উঠেনি। এই প্রকাশনা রাজপরিবারের সুনামকে প্রভাবিত করে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭৭ বছর বয়সী রাজা চার্লস ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। একই সময়ে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী ক্যাথরিন, প্রিন্সেস অব ওয়েলস,ও ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন। ক্যাথরিন পরে রেমিশনে আছেন বলে জানানো হলেও, এই রোগগুলো পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী ছায়া ফেলেছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক চলছিল। এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী, যার সঙ্গে অ্যান্ড্রু বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সম্পর্কের প্রকৃতি ও পরিমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নতুন নথি প্রকাশ করে এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর যোগাযোগের প্রমাণ তুলে ধরে। নথিগুলোতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজের সময় এপস্টেইনের কাছে গোপন তথ্য সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকাশনা বিতর্ককে পুনরায় তীব্র করে।

গ্রেপ্তারটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো জ্যেষ্ঠ রাজপরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহীত হয়েছে। অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করছিলেন এবং সেই সময়ে এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন তথ্য বিনিময় করার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজা চার্লস গ্রেপ্তার সংক্রান্ত একটি বিরল ব্যক্তিগত বিবৃতি দিয়ে বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে” এবং তিনি এই ঘটনার ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

রাজপরিবারের অভ্যন্তরে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের প্রভাব সম্পর্কে ঐতিহাসিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। যদি প্রমাণিত হয় যে পরিবার কোনোভাবে অ্যান্ড্রুকে রক্ষা বা সহায়তা করেছে, তবে তা রাজতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে এই বিশ্লেষণগুলো এখনও অনুমান পর্যায়ে রয়েছে।

আইনি দিক থেকে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযোগের মধ্যে গোপন তথ্য সরবরাহ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে তাকে লন্ডনের একটি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আদালত তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় প্রত্যাশিত।

পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়া ও জনমত এই ঘটনার ওপর নজর রাখবে। বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর এই ঘটনার প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার রাজপরিবারের অভ্যন্তরে একটি নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে কী ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments