ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি জানিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও শিকাগো ভিত্তিক ফাইটার জেটগুলো ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, যা ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের ভিত্তি গড়ে তুলছে। ট্রাম্পের দলকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (IRGC) ও তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক ফাইটার প্লেনের উপস্থিতি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই শক্তি প্রদর্শনকে ভিত্তি করে ট্রাম্পের পরামর্শদাতারা ইরানের গার্ডকে লক্ষ্য করে সীমিত, সুনির্দিষ্ট আঘাত (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) অথবা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংসের পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। কিছু বিশ্লেষক ইরানের শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছেন, যদিও তা ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
ইরান সরকার কোনো আক্রমণকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে সতর্কতা জানিয়েছে, যা অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ট্রাম্পের মতে, যদি পারমাণবিক চুক্তি না হয়, তবে তিনি ১০‑১৫ দিনের মধ্যে আক্রমণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সময়সীমা ইরান সরকারের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল।
অ্যাক্সিওসের সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্পের পরামর্শদাতাদের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে সরাসরি লক্ষ্য করে আক্রমণের বিকল্পও উপস্থাপিত হয়েছে। যদিও এই বিকল্পটি শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে কিনা স্পষ্ট নয়, তবে এটি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সরাসরি চাপের ইঙ্গিত দেয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দেন, যেখানে ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হেজবোল্লা ও হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থনকে সমাধান করার লক্ষ্য রয়েছে। ইরান সরকার এই চাহিদাগুলোর কোনোটি মেনে নিতে অস্বীকার করেছে, ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ছে।
মার্কিন ও ইরান সরকার সম্প্রতি ওমান ও সুইজারল্যান্ডে পরোক্ষ আলোচনার দুই রাউন্ড সম্পন্ন করেছে, তবে উভয় পক্ষের অবস্থান তেমন পরিবর্তন হয়নি। আলোচনাগুলো আবার সুইজারল্যান্ডে বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হবে, তবে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটবে কিনা তা অনিশ্চিত।
ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও ইরান সরকার এখনও আত্মসমর্পণ করেনি, যা ট্রাম্পকে আশ্চর্য করে তুলেছে। এই মন্তব্যটি ইরানের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাটাঙ্কা উল্লেখ করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্ভবত সীমিত সংঘাতের মাধ্যমে শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠন করতে চায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতায় আটকে না যায়। তিনি ইরানকে এখন একটি সংক্ষিপ্ত, উচ্চ প্রভাবশালী সামরিক অভিযান প্রত্যাশা করছে বলে উল্লেখ করেন, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোকে ধ্বংস করে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করবে।
ভাটাঙ্কা আরও বলেন, ইরানের প্রত্যাশা হল জুন ২০২৫-এ ইসরায়েল সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর একটি দ্রুত, তীব্র অভিযান যা পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা দুটোই দুর্বল করবে এবং অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্নির্ধারণ করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ইরানের সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক কৌশলকে একত্রে বিশ্লেষণ করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রামকে ধ্বংস করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যদিও এই দাবির পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান এখনও প্রকাশিত হয়নি। তার এই বক্তব্য ইরানের সঙ্গে আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ইরান সরকারের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। যদি তিনি সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকেন, তবে তা ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও ইরানের বর্তমান অবস্থান তা সহজে পরিবর্তন করতে পারে না, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিকল্পগুলো এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।



