29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সম্ভাব্য মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার জন্য উত্তরাধিকারী নিয়োগ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সম্ভাব্য মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার জন্য উত্তরাধিকারী নিয়োগ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ২২ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, মার্কিন ও ইজরায়েলি সরকারের সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকির মুখে নিজেকে এবং তার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য একটি বিকল্প শাসন পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। এতে তিনি ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি লারিজানিকে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেন।

খামেনি ৩৬ বছরের দীর্ঘ শাসনকালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় বেশি জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইজরায়েলি সরকারও ইরানের কৌশলগত অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সরকার ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থনের প্রতি ক্রমবর্ধমান হুমকি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে আঞ্চলিক ভিত্তিতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে ইরানের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।

ইজরায়েলি সরকারও ইরানের পরমাণু ও মিসাইল ক্ষমতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই দ্বৈত হুমকি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে অতিরিক্ত সতর্ক করেছে, ফলে তারা জরুরি শাসন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি আলি লারিজানিকে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিয়ে সম্ভাব্য শূন্যস্থান পূরণের জন্য প্রস্তুত করেছেন। লারিজানি পূর্বে বিপ্লবী গার্ডের উচ্চপদস্থ কমান্ডার ছিলেন এবং তার ঘনিষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

উত্তরাধিকারী নিয়োগের পাশাপাশি, খামেনি একাধিক স্তরের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যার মধ্যে জরুরি কমান্ড চেইন এবং শাসন সংক্রমণের প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি তিনি বা তার পুত্র মোজতবা খামেনি কোনো আক্রমণে নিহত হন, তবে নির্ধারিত উত্তরাধিকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাসন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

ইরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যদি তেহরান মার্কিন সরকারের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন সরকার ও ইজরায়েলি সরকার উভয়ই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই বিকল্প শাসন পরিকল্পনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও তৈরি হয়েছে। খামেনি ও তার পরামর্শদাতারা বিশ্বাস করেন, স্পষ্ট উত্তরাধিকারী কাঠামো প্রতিষ্ঠা করলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তবে ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মধ্যে ক্ষমতার স্থানান্তর মসৃণভাবে ঘটতে পারে, যা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে সহজতর করবে। তবে একই সঙ্গে, মার্কিন ও ইজরায়েলি সরকারের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ইরানের নিরাপত্তা নীতির উপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

ভবিষ্যতে ইরান সরকার কীভাবে এই বিকল্প শাসন কাঠামোকে বাস্তবায়ন করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কীভাবে পুনর্গঠন করবে, তা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক গতিবিধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments