29.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজাপান ১ কোটি কর্মী ঘাটতি স্বীকার, সাত দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করবে

জাপান ১ কোটি কর্মী ঘাটতি স্বীকার, সাত দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করবে

জাপান সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে যে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় ১ কোটি কর্মীর ঘাটতি রয়েছে এবং এই সমস্যার সমাধানে সাত দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারক ও শিল্প সংস্থাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পরিকল্পনা প্রণয়নে যুক্ত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে বয়স বৃদ্ধির হার ও কম জন্মহার শ্রমশক্তির হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কর্মক্ষম জনসংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় উৎপাদন খাত, সেবা শিল্প এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানিগুলো কর্মী ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ২০১ নম্বর কক্ষের মাধ্যমে এই জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশের পর, বেশ কয়েকটি বড় শিল্প সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের কর্মী চাহিদা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয়তা তালিকাভুক্ত করেছে। উৎপাদন শিল্পে বিশেষ করে অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনায় বিদেশি শ্রমিকের প্রবেশ সহজতর করা, দীর্ঘমেয়াদী ভিসা নীতি সংস্কার এবং নির্দিষ্ট দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের জন্য দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা যায়। এছাড়া, স্থানীয় কর্মশক্তি উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রম বাজারে প্রবেশের বাধা কমাতে ভিসা প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণ এবং আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের সময় হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো বিদেশি কর্মীর দ্রুত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে এবং শিল্পের তাত্ক্ষণিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

স্থানীয় কর্মশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার ও বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করবে, যেখানে ডিজিটাল দক্ষতা, রোবোটিক্স এবং উচ্চ প্রযুক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল বর্তমান কর্মীদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সক্ষম করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করা।

কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে কর্মী ঘাটতির প্রভাবকে মূল্যহ্রাস, উৎপাদন বিলম্ব এবং গ্রাহক সেবার মান হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাই তারা সরকারী পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নকে ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে, শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বিদেশি কর্মীর প্রবেশে সামাজিক সমন্বয় ও কাজের শর্তের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। তারা কর্মস্থলে সমতা, নিরাপত্তা এবং বেতন কাঠামোর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারের নীতি সমর্থন করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নজরদারি চেয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, যদি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে শ্রম ঘাটতি কমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং জাপানের জিডিপি বৃদ্ধির হার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে পরিকল্পনার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও নীতির স্বচ্ছতার ওপর।

বাজারে ইতিমধ্যে এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শেয়ার মূল্যে সামান্য উত্থান দেখা গেছে, বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর শিল্পের শেয়ারধারীরা আশাবাদী। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মী ঘাটতি সম্পূর্ণ দূর করতে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়, ধারাবাহিক নীতি সমর্থন প্রয়োজন।

সপ্তাহের শেষের দিকে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শিল্প সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও নিয়মাবলী সংশোধনের কাজ দ্রুত অগ্রসর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, জাপানের শ্রম ঘাটতি সমস্যার সমাধানে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মশক্তি উন্নয়ন কৌশল একসাথে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments