লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হল-এ অনুষ্ঠিত বিএফটিএ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে টোয়েটার রোগী জন ডেভিডসনকে শো চলাকালীন বারবার অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করতে শোনা যায়, যা উপস্থিতি ও অনলাইন দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সূত্রপাত করে।
ডেভিডসন হলেই বর্ণিত চলচ্চিত্র “আই স্বেয়ার”‑এর বাস্তব অনুপ্রেরণা, যা টোয়েটার সিনড্রোমে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির জীবনের সংগ্রামকে চিত্রিত করে।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে রবার্ট আরামায়ো অভিনয় করেছেন এবং তিনি লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও, টিমোথি শ্যালামেট, ইথান হক ও মাইকেল বি. জর্ডানকে হারিয়ে সেরা অভিনেতা পুরস্কার জিতেছেন।
টোয়েটার সিনড্রোমে হঠাৎ, অনিচ্ছাকৃত আন্দোলন ও শব্দের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়; এ ধরনের টিকসের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে গালি ও চিৎকারও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সমারোহের প্রথম বিশ মিনিটে, আয়োজকরা অনুষ্ঠানিক নিয়মাবলী জানাতে গিয়ে ডেভিডসন তীব্র স্বরে অনুষ্ঠানকে বোরিং বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, দর্শকদের গালি না বলার অনুরোধের পর তিনি তীব্র বিরোধিতা করে একটি অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানান।
বিএফটিএ চেয়ার সারা পাটের উদ্বোধনী বক্তব্যের সময় ডেভিডসন হঠাৎ করে একটি স্পষ্ট আদেশমূলক বাক্য উচ্চারণ করে তাকে নীরব থাকতে বলার চেষ্টা করেন।
এরপর মাইকেল বি. জর্ডান ও ডেলরয় লিন্ডো যখন সর্বোত্তম ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস পুরস্কার “অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ”‑কে প্রদান করেন, তখন ডেভিডসন একটি বর্ণবাদী গালি ব্যবহার করে শক সৃষ্টি করেন।
হোস্ট অ্যালান কামিং বারবার বিরতি নিয়ে দর্শকদের জানিয়ে দেন যে টোয়েটারের কিছু রূপে তীব্র ভাষা স্বাভাবিক এবং তিনি সবাইকে সহানুভূতি ও সম্মান বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন যে শোয়ের মূল লক্ষ্য হল সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সমারোহের প্রায় পঁচিশ মিনিট পর ডেভিডসন নিজস্ব ইচ্ছায় হল ছেড়ে যান, যা আয়োজকরা স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন।
এই প্রস্থানে কোনো নিরাপত্তা হস্তক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি; তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ডেভিডসনের আচরণ নিয়ে উপস্থিতি ও অনলাইন দর্শকদের মধ্যে টোয়েটার রোগের প্রকৃত প্রকাশ এবং শোভন অনুষ্ঠানের শিষ্টাচার বজায় রাখার বিষয়ে তীব্র বিতর্ক গড়ে ওঠে।
কিছু মন্তব্যকারী রোগের সচেতনতা বাড়াতে এই ধরনের প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, অন্যদিকে অন্যরা উল্লেখ করেন যে অশ্লীল শব্দ শোয়ের প্রবাহকে ব্যাহত করেছে।
বিএফটিএ এই ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
ডেভিডসনের প্রস্থান পরেও অনুষ্ঠানটি অব্যাহত থাকে এবং বাকি পুরস্কারগুলো কোনো অতিরিক্ত বাধা ছাড়াই প্রদান করা হয়।
“আই স্বেয়ার” চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন বিভাগে মনোনীত হয়, যা নিউরোডাইভার্সিটি ভিত্তিক গল্পের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
চলচ্চিত্রের পরিচালক কির্ক জোন্স উল্লেখ করেন যে এই কাজটি টোয়েটার রোগীর দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জগুলোকে হাস্যরস ও নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল; কেউ কেউ বাস্তবতার স্বীকৃতি দিয়ে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা টোয়েটার রোগে ভাষার ব্যবহার অনিবার্য নাকি তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়—এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএফটিএর ঐতিহ্যবাহী শোভন পরিবেশে এই অপ্রত্যাশিত মুহূর্তটি শিল্পের সত্যিকারের প্রকাশ এবং জনসাধারণের প্রত্যাশার মধ্যে সৃষ্ট টানকে উন্মোচিত করে।
আয়োজকরা ভবিষ্যতে নিউরোডাইভার্স অংশগ্রহণকারীদের জন্য সচেতনতা ও প্রবেশযোগ্যতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতি জানান, তবে অনুষ্ঠানের শিষ্টাচার বজায় রাখার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই ঘটনা ভবিষ্যতে পুরস্কার অনুষ্ঠানে অনুরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ মুহূর্তে রাতের বিজয়ী এবং পুরস্কারগুলোই প্রধান দৃষ্টি, যার মধ্যে রবার্ট আরামায়োর ঐতিহাসিক সেরা অভিনেতা জয় এবং “অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ”‑এর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত।
দর্শকদেরকে “আই স্বেয়ার” দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে টোয়েটার রোগের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে গভীরতর বোঝাপড়া ও সহানুভূতি গড়ে ওঠে।



