ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশে রাজধানীর কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরাধমূলক কার্যকলাপের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী মারধর এবং শিশু হত্যার অভিযোগের সংখ্যা বাড়ার ফলে পুলিশ সর্বত্র অভিযান চালু করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম গত রবিবার জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং চক্রের অপরাধ দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং তা নিয়ন্ত্রণে ত্বরিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে রাজধানীতে কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত অভিযোগে কয়েক হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ধর্ষণ। এই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখন দেশের অন্যতম গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার পরিবর্তে অপরাধে লিপ্ত হওয়া এই তরুণরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হত্যা, চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা ক্রমশ বাড়ছে। ডিএমপির একাধিক থানা অফিসার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই গ্যাং সদস্যরা মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
পুলিশ নতুন করে অভিযান চালু করেছে এবং গ্যাং সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজধানীর অন্তত ৩৫টি থানা থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি থানার এলাকায় কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত বড় একটি অংশ রয়েছে।
ডিএমপি সদর দপ্তরের সূত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি থানা এলাকার মধ্যে একাধিক কিশোর গ্যাং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গ্যাংগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
কিশোর অপরাধীদের জন্য কোনো পৃথক তথ্যভাণ্ডার না থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে দেশে ১৭৩টি কিশোর গ্যাং চক্র ছিল। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ২৩৭টি হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীতে বর্তমানে ১২৭টি গ্যাং সক্রিয়।
এই গ্যাংগুলো বিভিন্ন থানা, পাড়া ও মহল্লায় ছোট-বড় গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। তাদের বড় ভাইদের ভূমিকায় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, যারা গ্যাংকে আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন প্রদান করে।
কিশোর গ্যাং সদস্যরা ইভ টিজিং, ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং কখনো কখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাদের অপরাধের পরিসর বিস্তৃত হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এখন সব থানায় একই রকম নির্দেশনা দিয়ে গ্যাং সদস্যদের উপর নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে। তদুপরি, গ্যাং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কিশোর গ্যাং সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ সফলতা অর্জিত হয়নি, তাই চলমান অভিযান চালিয়ে যাওয়া জরুরি।



