23.4 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানঅ্যান্টার্কটিকায় কাজের সুযোগ: বিজ্ঞানী না হলেও আবেদন করতে পারেন

অ্যান্টার্কটিকায় কাজের সুযোগ: বিজ্ঞানী না হলেও আবেদন করতে পারেন

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এই পদগুলো বিজ্ঞানী নয়, বরং কার্পেন্টার, ইলেকট্রিশিয়ান, শেফ, হেয়ারড্রেসার ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার জন্য উন্মুক্ত। গ্রীষ্মের মৌসুমে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, এই স্টেশনগুলোতে কাজের চাহিদা বাড়ে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি, স্টেশনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, খাবার প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন জীবনের সব দিকের জন্য কর্মী প্রয়োজন। আবেদনকারীদের শারীরিক সক্ষমতা এবং দলগত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, তবে বিশেষ কোনো বৈজ্ঞানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

ড্যান ম্যাককেনজি, ৩৮ বছর বয়সী, পূর্বে সমুদ্রযানের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে হ্যালি VI গবেষণা স্টেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইংল্যান্ডের উইগানের ছোট শহর থেকে ১৯ বছর বয়সে বেরিয়ে বিভিন্ন দূরবর্তী স্থানে কাজ করেছেন, এবং এখন অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

হ্যালি VI, ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (BAS) পরিচালিত পাঁচটি স্টেশনের একটি, ব্রান্ট আইস শেলফের উপকূলে অবস্থিত। এই স্টেশনটি মহাকাশ ও বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য সংগ্রহ, বরফ শেলফের গঠন বিশ্লেষণ এবং পৃথিবীর ওজোন স্তরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীভূত।

ম্যাককেনজি বর্তমানে ৪০ জনের একটি দলকে গ্রীষ্মকালীন কাজের সময় পরিচালনা করছেন। দলটি নভেম্বরের শুরুতে অ্যান্টার্কটিকায় পৌঁছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যায়। প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা স্পষ্ট, এবং সকলেই কঠোর শীতলতা ও বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হয়।

অ্যান্টার্কটিকার গ্রীষ্মে তাপমাত্রা গড়ে -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে, তবে সর্বোচ্চ -৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উষ্ণ হতে পারে। বর্তমানে স্টেশনের বাইরে তাপমাত্রা -১৫ ডিগ্রি, আকাশ নীল এবং তুষার সাদা বিস্তৃত। সবচেয়ে শীতল সময়ে তাপমাত্রা -৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়, যা কাজের পরিবেশকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

গ্রীষ্মের সময় অ্যান্টার্কটিকায় সূর্য অবিরাম আলো দেয়; দিন ও রাতের পার্থক্য প্রায় অদৃশ্য। সূর্যাস্তের দৃশ্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে টিকে থাকে, যা কর্মীদের শারীরিক ঘড়ি ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।

স্টেশনের প্রধান গবেষণার ক্ষেত্রগুলো হল মহাকাশীয় রেডিয়েশন, বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসের গঠন, এবং ওজোন গর্তের পর্যবেক্ষণ। এছাড়া, বরফ শেলফের গতি ও গঠন পরিবর্তন ট্র্যাক করা হয়, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যান্টার্কটিকায় কাজ করা মানে তীব্র ঠাণ্ডা, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং একাকীত্বের মুখোমুখি হওয়া। তবে, এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক গবেষণায় সরাসরি অবদান রাখার সুযোগও আসে। কর্মীরা প্রায়শই কঠোর প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে এই পরিবেশে টিকে থাকে।

আবেদন প্রক্রিয়া উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। প্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা, পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং দলগত কাজের দক্ষতা যাচাই করা হয়। নির্বাচিত হলে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা অ্যান্টার্কটিকার কঠোর পরিবেশে নিরাপদে কাজ করতে পারে।

অ্যান্টার্কটিকায় কাজ করতে ইচ্ছুক এবং কঠিন শর্তে কাজ করার মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই সুযোগটি নতুন ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা প্রদান করে। আপনি কি এই অনন্য অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments