নাসা আর্টেমিস II মিশনের প্রথম ক্রুড লঞ্চের পরিকল্পনা আবার পিছিয়ে পড়েছে। কেএনডি স্পেস সেন্টারে মার্চের প্রথম সপ্তাহে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলাকালীন হিলিয়াম গ্যাসের প্রবাহে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় রকেটটি লঞ্চ প্যাড থেকে ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং (VAB) এ ফিরে আনতে হবে। এই পদক্ষেপের ফলে মার্চের লঞ্চ উইন্ডো বাতিল হয়ে গেছে এবং পরবর্তী সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত।
হিলিয়াম সমস্যাটি ২১ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে ধরা পড়ে। নাসা জানায়, স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটের ইন্টারিম ক্রায়োজেনিক প্রোপালশন স্টেজে হিলিয়াম প্রবাহে বাধা দেখা দেয়। এই স্টেজের ইঞ্জিন ও তরল হাইড্রোজেন‑তরল অক্সিজেন ট্যাঙ্কের চাপ বজায় রাখতে হিলিয়াম অপরিহার্য, এবং পূর্বের ভেজ ড্রেস রিহার্সাল চলাকালে সিস্টেমটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করেছিল। তবে ফেব্রুয়ারি ১৯ তারিখে ড্রেস রিহার্সাল শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক অপারেশন ও পুনঃকনফিগারেশনের সময় হিলিয়াম প্রবাহ সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নাসা দল এখন ব্যাকআপ পদ্ধতি ব্যবহার করে স্টেজের পরিবেশগত শর্ত বজায় রাখছে, ফলে রকেটটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। তবে সমস্যার মূল কারণ ও সমাধান নির্ণয়ের জন্য রকেটটি লঞ্চ প্যাড থেকে VAB-এ স্থানান্তর করা প্রয়োজন। নাসা এই স্থানান্তরের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে, যা প্রায় চার মাইল দূরত্বের একটি দীর্ঘ যাত্রা এবং কয়েক ঘণ্টা সময় নিতে পারে।
এই হিলিয়াম ত্রুটির ফলে মার্চের লঞ্চ উইন্ডো বাদ পড়েছে, তবে নাসা এখনও এপ্রিলের সম্ভাব্য লঞ্চ উইন্ডো রক্ষা করার চেষ্টা করছে। নাসা ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেটা বিশ্লেষণ, মেরামত কাজ এবং পরবর্তী সময়সূচি নির্ধারণের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে এপ্রিলের উইন্ডো রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। তাই আগামী সপ্তাহে একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সমস্যার বিশদ এবং পরবর্তী পরিকল্পনা জানানো হবে।
আর্টেমিস II মিশনের ক্রুতে কমান্ডার রিড উইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিন (Christ) অন্তর্ভুক্ত। তারা প্রায় পঞ্চাশ বছর পর প্রথমবারের মতো চাঁদের নিকটবর্তী অঞ্চলে মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। যদিও লঞ্চের তারিখ পরিবর্তিত হয়েছে, ক্রু সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে এবং রকেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাসা কর্তৃপক্ষের মতে, রকেটের বর্তমান কনফিগারেশন নিরাপদ, এবং হিলিয়াম প্রবাহের ব্যাঘাত সত্ত্বেও সিস্টেমটি পর্যাপ্তভাবে কাজ করছে। প্রযুক্তিগত দল দ্রুত সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধান করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রকেটের মূল কাঠামো বা অরিয়ন স্পেসক্রাফ্টে কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না, ফলে মিশনের সামগ্রিক লক্ষ্য ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
পাঠকরা উদ্বিগ্ন হতে পারেন, তবে নাসা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে রকেটটি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং সকল সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হিলিয়াম প্রবাহের সমস্যাটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের একটি অংশ, যা মহাকাশ মিশনের জটিল প্রকৃতির স্বাভাবিক অংশ। নাসা এই ধরনের সমস্যার সমাধানে বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবহার করে।
এই পরিস্থিতি থেকে দেখা যায়, মহাকাশ মিশনের সময়সূচি প্রায়ই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে নিরাপত্তা সর্বদা অগ্রাধিকার। নাসা যদি এপ্রিলের লঞ্চ উইন্ডো রক্ষা করতে পারে, তবে আর্টেমিস II মিশন চাঁদের দিকে অগ্রসর হবে এবং ভবিষ্যৎ চাঁদ ও মঙ্গল মিশনের ভিত্তি স্থাপন করবে।
পাঠক হিসেবে আমরা কীভাবে এই ধরনের আপডেটগুলোকে অনুসরণ করব? নাসার অফিসিয়াল চ্যানেল ও বিশ্বস্ত বিজ্ঞান সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য গ্রহণ করা সর্বোত্তম। আপনার মতামত ও প্রশ্ন শেয়ার করুন, যাতে আমরা একসাথে মহাকাশের অগ্রগতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারি।



