ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইন্টারিম ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিক গত শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি এবং তার দল জিম রাটক্লিফের কাছ থেকে কোনো ক্ষমা চিঠি বা বার্তা পাননি। রাটক্লিফ, যিনি ক্লাবের সর্ববৃহৎ শেয়ারহোল্ডার এবং ফুটবল নীতি নির্ধারক, ১১ ফেব্রুয়ারি স্কাই নিউজে যুক্তরাজ্যকে ‘ইমিগ্র্যান্টদের দ্বারা উপনিবেশিত’ বলে মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যের পরপরই ব্যাপক প্রতিবাদে তিনি পরের দিন ভাষা ব্যবহারে যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকে তবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ক্যারিককে রাটক্লিফের কাছ থেকে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমা চিঠি বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তিনি জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন, “শেষবার আমি রাটক্লিফকে দেখেছি আর্সেনালের সঙ্গে ২৫ জানুয়ারি ম্যাচে, আর তা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।” ক্যারিকের মতে, তার কাজের মূল দায়িত্ব হল দলের অভ্যন্তরে পরিবেশ গড়ে তোলা এবং প্রথম দলে নেতৃত্ব দেওয়া, তাই উপরের স্তর থেকে ক্রমাগত যোগাযোগের প্রয়োজন নেই।
ক্যারিকের কথায় তিনি যোগ করেন, “আমি এখানে আছি, সমর্থকরা শোনে, সেটাই আমার ভূমিকা, তবে আমাকে উপরের থেকে নিয়মিত নির্দেশনা দরকার নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাটক্লিফের মন্তব্যের ফলে দলের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। “আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি,” তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সপ্তাহে স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ মাঠে আমাদের দলকে দৃঢ়ভাবে একত্রিত দেখতে পাচ্ছি।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ এভারটন, যাদের সঙ্গে দলটি সোমবার রাতের ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ক্যারিকের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলটি মনোযোগী এবং একত্রিত রয়েছে। তিনি বললেন, “এভারটনের সঙ্গে খেলতে গিয়ে আমাদের প্রস্তুতি ও মনোভাব অপরিবর্তিত থাকবে।”
ক্যারিক ১৩ জানুয়ারি রুবেন আমোরিমের পরিবর্তে ইন্টারিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি একাডেমি ম্যাচে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি তার তত্ত্বাবধানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আন্ডার-১৮ দল ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ৩-১ জয় অর্জন করে। ক্যারিক এই জয়কে দলের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ক্যারিক তার নিজের যুবকালের অভিজ্ঞতা থেকেও কথা বলেছেন। তিনি ওয়েস্ট হ্যামের তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮-৯৯ সালের এফএ যুবকাপের জয় স্মরণ করে বললেন, “সেই সময়ের সংগ্রাম ও সাফল্য আমাকে আজকের দায়িত্বে প্রস্তুত করেছে।” এই স্মৃতি তাকে বর্তমানের তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশে সহায়তা করার প্রেরণা জোগায়।
রাটক্লিফের মন্তব্যের পর ক্লাবের অভ্যন্তরে কিছু আলোচনার সূত্র পাওয়া গিয়েছে, তবে ক্যারিক স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাটক্লিফের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বজায় রাখছেন না। “আমার কাজ হল মাঠে ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দলের পরিবেশ বজায় রাখা, ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে না গিয়ে,” তিনি যোগ করেন।
ক্লাবের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা রাটক্লিফের ক্ষমা চিঠি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ক্যারিকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রকাশিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি রাটক্লিফের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা আসে, তা অবশ্যই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে, তবে এখন পর্যন্ত তা হয়নি।”
ক্যারিকের মতে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ—যেখানে সব খেলোয়াড় একসাথে কাজ করে—এখনো অটুট রয়েছে। “সির অ্যালেক্স ফার্গুসনের সময় গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ সংস্কৃতি এখনও আমাদের গাইডলাইন,” তিনি বলেন। এই সংস্কৃতি বজায় রাখতে তিনি দলীয় সভা ও প্রশিক্ষণ সেশনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এভারটনের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে, ক্যারিক দলের ট্যাকটিক্যাল দিকেও নজর দিয়েছেন। তিনি বললেন, “আমাদের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা এবং রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী সমন্বয় করব।” এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নজর রাখবেন, যাতে তারা মূল দলে সুযোগ পায়।
ক্লাবের ভক্তদের প্রতি ক্যারিকের বার্তা স্পষ্ট: “আপনাদের সমর্থন আমাদের জন্য অপরিহার্য, এবং আমরা তা সর্বদা মূল্যায়ন করি।” তিনি যোগ করেন, “যদি কোনো সময় আমাদের কাজের ফলে কোনো ভুল হয়, আমরা তা সংশোধন করার চেষ্টা করব।”
সারসংক্ষেপে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইন্টারিম ম্যানেজার ক্যারিক রাটক্লিফের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ জানুয়ারি জানিয়েছেন এবং রাটক্লিফের মন্তব্যের পর কোনো ক্ষমা চিঠি পাননি। তিনি দলের ঐক্য ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে এভারটনের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।



