ঢাকা – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনা সরকারী স্তরে গুঞ্জন তুলেছে। গুঞ্জনের সূত্রে বলা হচ্ছে, সরকার ইতিমধ্যে তাজুলের অব্যাহতির জন্য অনুমোদন দিয়েছে এবং বিষয়টি গত দুই‑তিন দিন আলোচনা চলছে। তবে সরকারী কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রসিকিউটর দলের একজন সদস্যের মতে, তাজুলকে প্রধান কৌঁসুলি পদ থেকে সরানো হবে এবং এই সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রগতি ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, শনিবার রাত একটার দিকে এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করে তিনি গুঞ্জনের মূল সূত্র হিসেবে কথা বলছেন। যদিও তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি যে শনিবার রাতের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা, তবু তিনি নিশ্চিত করে বলছেন যে তাজুলের অব্যাহতি নিশ্চিত।
একই সময়ে, আইসিটি সংক্রান্ত খবর ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক ফেসবুকে পোস্ট করে তাজুলের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকার তাজুলের পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রধান কৌঁসুলি পদে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পোস্টে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি পূর্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধের দুর্নীতি মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদানকারী দলের সদস্য ছিলেন।
ব্রিটিশ সাংবাদিকের পোস্টে তাজুলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাজুল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তাছাড়া, তাজুলের পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারী কোনো বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
বিএনপি সরকার গঠনের পর সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রসিকিউশন টিম না থাকলেও আইসিটিতে চলমান মামলাগুলো অব্যাহত থাকবে। তিনি প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাজুলের পদত্যাগের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাননি এবং তাজুলের পরিবর্তন নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাতে তাজুলকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি কলের উত্তর দেননি। এই পরিস্থিতি আইসিটি সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে, কারণ প্রধান কৌঁসুলির পরিবর্তন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং চলমান আন্তর্জাতিক মামলাগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি তাজুলের পরিবর্তে আমিনুল ইসলাম নিয়োগ পায়, তবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধের দুর্নীতি মামলায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে। অন্যদিকে, তাজুলের অব্যাহতি আইসিটিতে চলমান অন্যান্য মামলায় প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় গুঞ্জনই একমাত্র সূত্র। তবে গুঞ্জনের ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তাজুলের পদত্যাগের সম্ভাবনা বাড়ছে। ভবিষ্যতে সরকার যদি নতুন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগ করে, তবে আইসিটিতে চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশের আইনি নীতিমালার ওপর প্রভাব পড়বে।
এই গুঞ্জন এবং সম্ভাব্য পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে আইসিটি সংক্রান্ত নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তাজুলের পরিবর্তন যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা আইসিটিতে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করবে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের পদত্যাগের গুঞ্জন সরকারী স্তরে গৃহীত হয়েছে, তবে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তাজুলের পরিবর্তন আইসিটিতে চলমান মামলাগুলোর ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



