মেক্সিকোর সর্বোচ্চ অনুসন্ধানাধীন অপরাধী এবং জালিস্কো নিউ জেনারেশন (CJNG) গ্যাংস্টার নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্টেস, যাকে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, রবিবার ভোরবেলায় জালিস্কো রাজ্যের কেন্দ্রীয়-পশ্চিমাঞ্চলে পরিচালিত সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন।
এল মেনচো প্রায় দশ বছর ধরে মেক্সিকোর মাদক ব্যবসা ও হিংসাত্মক অপরাধের শীর্ষে ছিলেন, এবং তার নেতৃত্বে CJNG দেশব্যাপী বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অপারেশনটি ভোরের প্রথম ঘণ্টায় শুরু হয় এবং লক্ষ্যবস্তু এল মেনচোকে একটি গোপন স্থানে ধরা পড়ে। তার পরপরই তাকে হেলিকপ্টারে তুলে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
মেক্সিকো রক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, হেলিকপ্টার থেকে স্থানান্তরের সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই তথ্য রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
CJNG মূলত জালিস্কো রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও, গত কয়েক বছরেই এটি মেক্সিকোর প্রায় সব প্রদেশে কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
অভিযানের পর দিন জালিস্কো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অপ্রমাণিতভাবে গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং গুলিবর্ষণের খবর শোনা যায়; তবে এসব ঘটনা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে এল মেনচোর গ্রেফতার বা তথ্য সরবরাহের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.১ কোটি পাউন্ড) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ জালিস্কো, তামুলিপাস, মিচোয়াকান, গেরেরো এবং নিউ লিয়ন প্রদেশে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের জন্য ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ সতর্কতা জারি করেছিল, যাতে তারা নিরাপদে থাকেন।
অভিযানের পর মেক্সিকোর ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, মৃতদেহের ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং গ্যাংয়ের অবশিষ্ট সদস্যদের অনুসরণে কাজ শুরু করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, আইনগত প্রক্রিয়া চালু হবে; সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এল মেনচোর মৃত্যুর পরেও গ্যাংয়ের কাঠামো ভেঙে ফেলতে এবং অবশিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন করতে পদক্ষেপ নেবেন।
এই ঘটনার ফলে মেক্সিকোর মাদক বাণিজ্য ও সংগঠিত অপরাধের গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে গ্যাংয়ের শূন্যস্থান পূরণে নতুন নেতারা উদ্ভব হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর নিরাপত্তা সংস্থার জন্য একটি বড় অর্জন হলেও, দেশের অপরাধমূলক কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে দমন করা এখনও দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।



