শফিকুর রাহমান, ৫৫ বছর বয়সী, বিএনপি ওয়ার্ড ১৬ ইউনিটের প্রাক্তন উপ-সাধারণ সম্পাদক, গত রবিবার রাত প্রায় ৯:৩০ টায় ঢাকার ক্যালাবাগান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল ছিল প্যানথাপথে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে অবস্থিত জুতা বাজারের সামনে, যেখানে তিনি জুতা সরবরাহের কাজ করতেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শফিকুরকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তাকে ধাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। বামহাতের তালুতে গুলি লাগার ফলে ক্ষত হয়েছে, তবে ইনস্পেক্টর মো. ফারুকের মতে রোগী বর্তমানে জরুরি সেবায় চিকিৎসা গ্রহণ করে নিরাপদ অবস্থায় আছেন।
শফিকুরের সঙ্গে থাকা দোকানদার মনির হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী শফিকুরের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন, ওই গোষ্ঠী রাত্রিকালীন সময়ে শফিকুরকে আটক করে আবার টাকা চাওয়া শুরু করে, এবং শফিকুরের ফোন না ধরার অভিযোগে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
মনির হোসেন শফিকুরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার গাড়ি ব্যবহার করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লেগেছে। শফিকুরের পরিবার এবং সহকর্মীরা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
ক্যালাবাগান থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্বে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সনাক্ত করার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, গুলিবিদ্ধের সময় কোনো গাড়ি থামিয়ে না নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে, তবে তারা সব প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধের সময় ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরন এবং গুলির ক্যালিবার সম্পর্কে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে, যা তদন্তে সহায়ক হবে। এছাড়া, গুলিবিদ্ধের সময় ক্যামেরা রেকর্ডিং বা কোনো সাক্ষীর বিবৃতি সংগ্রহের জন্য স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ইনস্পেক্টর মো. ফারুকের মতে, শফিকুরের অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা চলমান, তাই তিনি শীঘ্রই হাসপাতালে থেকে ছাড় পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ক্যালাবাগান এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন হিংসা সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
পুলিশের মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, গুলিবিদ্ধের পেছনে আর্থিক লুটপাটের উদ্দেশ্য থাকতে পারে, তবে চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন। শফিকুর রাহমানের চিকিৎসা অবস্থা এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।



