প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্সেনাল টটেনহ্যামকে ৪-১ পরাজিত করে শিরোপা দৌড়ে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। ইবেরেচি ইজে এবং ভিক্টর গ্যোকারেস প্রত্যেকেই দু’টি করে গোল করে দলকে বড় সুবিধা দিয়েছেন। এই জয়টি আর্সেনালের শিরোপা প্রচেষ্টায় ম্যানচেস্টার সিটির কাছ থেকে বাড়তে থাকা চাপের মাঝেও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে।
আর্সেনাল সাম্প্রতিক সপ্তাহে দুর্বল পারফরম্যান্সের শিকার ছিল; বুধবার উলভসের সঙ্গে ড্র তাদের জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল এবং সাতটি ম্যাচে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করতে পারা দলটি সমালোচনার মুখে পড়ে। ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা হুমকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্টেটা ও তার খেলোয়াড়দের উপর চাপ বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে টটেনহ্যামের ঘরে এই জয়টি আর্সেনালের জন্য বড় সান্ত্বনা নিয়ে আসে।
টটেনহ্যামের দিক থেকে নতুন কোচ ইগর টুডরের অধীনে দলটি নতুন উত্সাহের সন্ধান করছিল। টুডরকে সাম্প্রতিক সময়ে টমাস ফ্র্যাঙ্কের পদত্যাগের পর দায়িত্বে আনা হয় এবং তিনি দলকে রিলিভার করার চেষ্টা করছেন। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে টটেনহ্যামই সমতা ভাঙে; র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি ৩৪তম মিনিটে গোল করে দলকে ১-০ করে তুলেছে। এটি মুয়ানির জন্য প্রিমিয়ার লিগে প্রথম গোল এবং তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
আর্সেনাল দ্রুতই সমতা ভাঙে এবং ম্যাচের প্রবাহ নিজের দিকে নিয়ে নেয়। ইজে প্রথমার্ধে গোল করে দলকে সমতা থেকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরের দিকে গ্যোকারেসও গোল করে স্কোরকে বাড়িয়ে দেয়। টটেনহ্যাম যদিও কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখায়, তবে ডেভিড রায়ারকে রিচার্লিসন ৮৪তম মিনিটে চমৎকার সেভ করে রক্ষা করে। এই মুহূর্তে স্টেডিয়ামটি তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে এবং উভয় দলের সমর্থকই খেলায় মনোযোগী থাকে।
ম্যাচের শেষের দিকে গ্যোকারেসের অতিরিক্ত গোল টটেনহ্যামের আত্মবিশ্বাসকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। স্টপেজ সময়ে গ্যোকারেস গুইলেলমো ভিকারিওকে পরাজিত করে চূড়ান্ত স্কোর ৪-১ করে দেয়। এই গোলটি টটেনহ্যামের ভক্তদের জন্য বিদায়ের সংকেত হয়ে ওঠে এবং দলের বর্তমান অবস্থা আরও স্পষ্ট করে দেয়; টটেনহ্যাম এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে ১৮টি ম্যাচে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করেছে।
আর্সেনালের কোচ আর্টেটা ম্যাচের পর ইজেকে আবার স্টার্টিং লাইনআপে রাখার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। ইজের দ্রুত গতি ও সৃজনশীলতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গ্যাপ পূরণ করতে সাহায্য করেছে। গ্যোকারেসের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং শুটিং ক্ষমতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করেছে, যা টটেনহ্যামের রক্ষার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে স্কোর বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
এই জয়টি আর্সেনালের শিরোপা দৌড়ে নতুন উদ্যম যোগায় এবং দলকে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে। টটেনহ্যামের জন্য এই পরাজয়টি নতুন কোচের অধীনে দলকে পুনর্গঠন করার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। উভয় দলের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে এই ফলাফলগুলো প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়ে তুলবে।



