২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা যাচাই করে সঠিক ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের বীরদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক তথ্য প্রদান করা।
বৈঠকটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এর সদস্যরা অংশ নেন। সভার সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। মন্ত্রীর নেতৃত্বে আলোচনায় তালিকা যাচাইয়ের পদ্ধতি, মানদণ্ড এবং পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত হয়।
বৈঠকে জামুকা সদস্যদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী একত্রে তালিকাভুক্ত নামের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল মুক্তিযোদ্ধা তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।
সিদ্ধান্তের মূল বিষয় ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনরায় যাচাই করে সরকারী রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা। এতে অতিরিক্ত বা ভুল নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদেরই স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সরকার এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার জন্য একটি বিশেষ কর্মদল গঠন করার কথা জানায়।
মন্ত্ৰী হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভার শুরুর দিকে উল্লেখ করেন যে মুক্তিযুদ্ধই দেশের স্বাধীনতার ভিত্তি এবং তা কখনোই অন্য কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে মিশ্রিত করা যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে মুক্তিযুদ্ধের আত্মা ও ত্যাগের সঠিক ধারণা না থাকলে জাতির ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মন্ত্রীর মতে, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য সংগ্রামকে একত্রে দেখা ভুল ধারণা তৈরি করে। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার সংগ্রামকে অন্য কোনো আন্দোলনের সাথে তুলনা করা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটায় এবং তা তরুণ প্রজন্মের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
মন্ত্ৰী এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা বিভিন্ন স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে নতুন প্রজন্ম সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই অপব্যবহারকে রোধ করার জন্য তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
মন্ত্রীর মতে, আজকের যুব সমাজের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে অনেক তরুণই জানে না কীভাবে মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র কষ্টের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। এই জ্ঞান ঘাটতি দূর করতে তালিকা যাচাই এবং প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্ৰী হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, তাদের অবদানই বাংলাদেশের জন্মের একমাত্র মূল ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ভিত্তি ছাড়া দেশের কোনো ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায় না এবং তাই মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় গর্ব ও ঐক্যের অনুভূতি দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সরকার তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঐতিহাসিক তথ্যের সঠিক প্রচারেও মনোযোগ দেবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জামুকা সদস্যবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি জানান। তারা তালিকা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণে কাজ করবেন।
বৈঠকের সমাপ্তিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে তালিকা যাচাইয়ের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে এবং ফলাফল সরকারী ও জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের বীরদের সম্মান বাড়বে এবং দেশের ইতিহাসের সঠিক রেকর্ড নিশ্চিত হবে।



