20.9 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকিশতওয়ারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জয়শ-ই-মোহাম্মদের মোস্ট ওয়ান্টেড সাইফুল্লাহসহ তিন জঙ্গি নিহত

কিশতওয়ারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জয়শ-ই-মোহাম্মদের মোস্ট ওয়ান্টেড সাইফুল্লাহসহ তিন জঙ্গি নিহত

জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক সংঘর্ষে জয়শ-ই-মোহাম্মদের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহসহ দুইজন সহকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত, যখন নিরাপত্তা বাহিনী চিত্রো, সোনার, দোলগাম ও দিচ্ছার মতো কঠিন পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে চলমান ‘অপারেশন ত্রাশি‑১’ এর অংশ হিসেবে কিশতওয়ার কিশতওয়ার পাহাড়ের ঢালে গড়ে থাকা মাটির ঘরে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের ওপর আক্রমণ চালায়।

সাইফুল্লাহের নাম নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে; তিনি গত দুই বছর ধরে এই অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন এবং অন্তত বিশবার নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারিত ছিল।

অভিযানটি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং বিশেষ বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গিদের অবস্থান সনাক্ত করে গুলিবিদ্ধ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গুলি চালানোর সময় জঙ্গিরা পাল্টা গুলিবিদ্ধ হয় এবং তিনজনই প্রাণ হারায়।

সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে দুটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং প্রচুর পরিমাণে রসদ উদ্ধার করেছে। এই ধরণের অস্ত্র ও সরবরাহের উপস্থিতি জঙ্গিদের দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

কিশতওয়ার জেলায় একই অঞ্চলে আগে আরেকজন জয়শ-ই-মোহাম্মদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আদিলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। গত এক মাসে চিত্রো বনাঞ্চলে ছয়বারেরও বেশি এনকাউন্টার ঘটেছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র অনুসন্ধানকে নির্দেশ করে।

‘অপারেশন ত্রাশি‑১’ জানুয়ারি মাস থেকে চালু হয়েছে এবং কিশতওয়ার চিত্রো, সোনার, দোলগাম ও দিচ্ছার মতো দূরবর্তী বন ও পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অভিযানটির মূল লক্ষ্য হল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবকাঠামো ধ্বংস করা, তাদের সরবরাহ লাইন কেটে ফেলা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই ধরণের সফল অভিযান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে দুর্বল করবে এবং ভবিষ্যতে আরও আক্রমণ রোধে সহায়তা করবে। এছাড়া, সাইফুল্লাহকে হত্যা করা এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই তদন্ত দল ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাবে এবং উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরবরাহের বিশদ পরীক্ষা করবে। সংগ্রহ করা প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাটি নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ আদালতে দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে একই ধরনের এনকাউন্টার এড়াতে গোয়েন্দা তথ্যের শেয়ারিং ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও তদারকি বাড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুনরায় গঠন রোধ করা যায়। স্থানীয় প্রশাসনও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।

সামগ্রিকভাবে, কিশতওয়ার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর এই সফল অভিযান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হানেছে এবং ভবিষ্যতে অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments