অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ সালের উদ্বোধনের আগে প্যাভিলিয়ন স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি প্রকাশক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে গৃহীত হয়। বৈঠকটি শ্রীলঙ্কা মুনীর চৌধুরী অডিটোরিয়ামে, বাংলা একাডেমীর অধীনে, রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক রাজ্যমন্ত্রী আলি নওয়াজ মাহমুদ খায়েম, সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মোফিদুর রহমান, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আজম এবং একাডেমীর সচিব মো. সেলিম রেজা। সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে, পূর্বে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকাশকরা তা ভেঙে ফেলবেন। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি সহযোগিতা করবে।
প্যাভিলিয়ন বাতিলের পাশাপাশি, প্রকাশকরা যে স্টল পেতে চেয়েছিলেন তার লটারিও শেষ হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনকারী প্রকাশকদের মধ্যে লটারি রাত ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়। লটারি ফলাফলের ভিত্তিতে স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রকাশকরা ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের স্টল গঠন শুরু করতে পারবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পূর্বে জানিয়েছিল যে, এই বছরের বইমেলায় স্টল ফি সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হবে। ফলে প্রকাশক ও বিক্রেতা উভয়ই আর কোনো আর্থিক বোঝা ছাড়াই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই পদক্ষেপটি বইমেলার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং পাঠকদের জন্য আরও বৈচিত্র্যময় বইয়ের সংগ্রহ নিশ্চিত করতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
বইমেলার উদ্বোধন ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ২ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বইমেলার গুরুত্ব ও দেশের পাঠ্য সংস্কৃতির উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরবেন।
প্রকাশক ও বিক্রেতাদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্যাভিলিয়ন না থাকায় স্টল গঠন সহজ হবে এবং স্থানিক সীমাবদ্ধতা কমে যাবে। তবে স্টল গঠন ও সাজসজ্জার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে পাঠকদের আকর্ষণ বজায় থাকে।
পাঠক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: বইমেলা ভিজিটের আগে স্টল বরাদ্দের তালিকা দেখে আগ্রহের প্রকাশকের স্টল চিহ্নিত করুন, এবং মওকুফ ফি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বই কেনার সময় অতিরিক্ত ছাড়ের সুযোগ নিন। আপনার প্রিয় লেখক বা প্রকাশকের নতুন প্রকাশনা সরাসরি স্টলে পাওয়া সম্ভব, তাই সময়মতো পৌঁছাতে পরিকল্পনা করুন।



