20.9 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যইতালির আসিসিতে সেন্ট ফ্রান্সিসের হাড় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

ইতালির আসিসিতে সেন্ট ফ্রান্সিসের হাড় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

ইতালির মধ্যভাগে অবস্থিত আসিসি শহরে ১২২৬ সালে মৃত্যুবরণ করা সেন্ট ফ্রান্সিসের অস্থি ৮০০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে। ইতালীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় চার লক্ষ মানুষ এই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অনুষ্ঠানটি রবিবার থেকে শুরু হয়ে ২২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

বসন্তের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি আসিসি শহরের বিখ্যাত সেন্ট ফ্রান্সিস বেসিলিকার নীচের গির্জায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গির্জার নীচের অংশটি ঐতিহাসিকভাবে সেন্ট ফ্রান্সিসের অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত, এবং এখন এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গির্জার ভিতরে বিশেষ আলো ও সুরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অস্থির অখণ্ডতা বজায় থাকে।

সেন্ট ফ্রান্সিসের অস্থি পূর্বে মাত্র একবার, ১৯৭৮ সালে, সীমিত সংখ্যক ব্যক্তির জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময়ে একদিনের জন্য সীমিত দর্শকদেরকে দেখানো হয়েছিল, তবে এখন এইবার ব্যাপক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ সুযোগটি ধর্মীয় ভক্ত, ইতিহাসপ্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

সেন্ট ফ্রান্সিস ১১৮১ বা ১১৮২ সালে আসিসি শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার জীবনের বেশিরভাগ সময় দারিদ্র্য ও দানশীলতার পথে অগ্রসর ছিলেন। তিনি সম্পদ ত্যাগ করে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান এবং ফ্রান্সিসকান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিশ্বব্যাপী বহু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তার জীবনধারা ও শিক্ষাগুলি আজও বহু মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সেন্ট ফ্রান্সিসকে প্রাণী ও পরিবেশের রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজা করা হয়। তিনি প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে জীবনযাপন করার পক্ষে ছিলেন, যা আধুনিক পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের সময়ে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাণী অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায়।

সেন্ট ফ্রান্সিসের মৃত্যুবার্ষিকী প্রতি বছর ৪ অক্টোবর পালিত হয়, যা তার মৃত্যুর দিন হিসেবে স্বীকৃত। এই দিনটি ক্যাথলিক ধর্মে বড় উৎসবের মর্যাদা পায় এবং বিশ্বজুড়ে বহু গির্জা ও মঠে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান হয়। আসিসিতে এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভক্তরা একত্রিত হন।

পূর্বে রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, যিনি গত বছর মৃত্যুবরণ করেন, তার নামই সেন্ট ফ্রান্সিসের আদর্শ থেকে নেওয়া। পোপ ফ্রান্সিসের নেতৃত্বে গির্জা দারিদ্র্য, ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছিল। তার নামকরণ ও কাজের পেছনে সেন্ট ফ্রান্সিসের সরলতা ও ত্যাগের আদর্শের প্রভাব স্পষ্ট।

অস্থি প্রদর্শনী ২২ মার্চ পর্যন্ত চলবে, এবং এই সময়কালে দর্শনার্থীরা গির্জার নির্ধারিত সময়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ইতালীয় পর্যটন সংস্থা উল্লেখ করেছে, আগাম অনলাইন রিজার্ভেশন করা প্রয়োজন, যাতে গির্জার ভিতরে অতিরিক্ত ভিড় না হয়। নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে মুখোশ ও সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ ভ্রমণকারী ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এই প্রদর্শনী একটি বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে। আসিসি শহরটি ইতালির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান, যেখানে সেন্ট ফ্রান্সিসের জীবনের নানা দিক অন্বেষণ করা যায়। ভ্রমণ পরিকল্পনা করার সময় সরাসরি টিকিট বুকিং ও ভ্রমণসূচি যাচাই করা সুবিধাজনক হবে।

সারসংক্ষেপে, সেন্ট ফ্রান্সিসের অস্থি ৮০০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আসিসির বেসিলিকায় উন্মুক্ত হওয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সুযোগটি ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ভক্ত ও গবেষকরা ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন, এবং একই সঙ্গে সেন্ট ফ্রান্সিসের ত্যাগ ও মানবিক আদর্শকে পুনরায় স্মরণ করতে পারবেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments