আজ সেলহার্স্ট পার্কে ইভান গেসস্যান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলের ফলে ক্রিস্টাল প্যালেস ১-০ স্কোরে উলভসকে পরাজিত করে। এই জয়টি ক্লাবের ১ নভেম্বরের পর সেলহার্স্টে প্রথম লিগ জয় এবং সব প্রতিযোগিতায় শেষ ১৬ টিতে দ্বিতীয় জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
ম্যাচের শুরুর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ক্রিস্টাল প্যালেসের সমর্থকরা ডিন হেন্ডারসনের গোলের পিছনে একটি ব্যানার উড়িয়ে দেয়, যেখানে “অবসরপ্রাপ্ত বোর্ড, ভক্তদের অবহেলা, গ্লাসনারের শেষ” ইত্যাদি লিখা ছিল। ব্যানারটি ভক্তদের অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ক্লাবের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
দুই দলে উভয়ই আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যায়, তবে উলভসের লাদিস্লাভ ক্রেজি দ্বিতীয় হলুদ পায় এবং ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয়। ক্রেজি কিক দিয়ে বল দূরে পাঠানোর কারণে রেফারির সিদ্ধান্তে তাকে দ্বিতীয় হলুদ দেওয়া হয়, ফলে উলভসের রক্ষণে বড় ফাঁক তৈরি হয়।
উলভসের জন্য প্রথমার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আসে, যখন টোলু আরোকোডারে পেনাল্টি নেয়। তবে গোলরক্ষক সফলভাবে শটটি আটকে দেয়, ফলে উলভসের স্কোর বাড়ার সুযোগ হারায় এবং ম্যাচটি ০-০ অবস্থায় থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে উলভসের দশজন খেলোয়াড়ের পরেও তারা প্রতিরোধে দৃঢ় থাকে, তবে নিয়মিত সময়ের শেষ মিনিটে ইভান গেসস্যান্ডের গড়িয়ে আনা শট নেটের পিছনে গিয়ে গোল হয়। গোলের পর ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত বইয়ে যায়, এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের কয়েক সপ্তাহের হতাশা এক মুহূর্তে দূরে সরে যায়।
ম্যাচের পর ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ অলিভার গ্লাসনার দলের কিছু খেলোয়াড়কে সমালোচনা করেন, বলেন তারা “আগামী বছর কোথায় খেলবে” তা নিয়ে বেশি চিন্তা করে, বর্তমান পারফরম্যান্সের চেয়ে। গ্লাসনার ভক্তদের কাছে নম্রতা বজায় রাখতে আহ্বান জানান, যদিও তার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত রয়ে যায়।
ভক্ত গোষ্ঠী হোলমসডেল ফ্যানাটিক্সের একটি ব্যানার নটিংহাম ফরেস্টের মালিক ইভ্যাঞ্জেলস মারিনাকিসের প্রতি অপমানজনক মন্তব্য করে, যার ফলে ফিফা ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৫০,০০০ পাউন্ড জরিমানা আরোপ করে। এই ঘটনা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা এবং ভক্তদের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র বিরোধকে প্রকাশ করে।
উলভসের কোচ রব এডওয়ার্ডস উল্লেখ করেন যে, যদিও দলটি ডার্বির ২০০৮ সালের রেকর্ড ন্যূনতম পয়েন্টের সমান করতে ব্যর্থ হয়েছে, তবু তারা কিছু ইতিবাচক দিক দেখিয়েছে। এডওয়ার্ডস গর্ব প্রকাশ করেন যে, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে।
এই জয় ক্রিস্টাল প্যালেসের অবনতি ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে দেয় এবং দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। দলটি এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতায় শেষ ১৬ টিতে দুইটি জয় অর্জন করেছে, যা তাদের রিলিগেশন লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
ক্রিস্টাল প্যালেসের খেলোয়াড় ও স্টাফ এখন এই জয়কে ভিত্তি করে পরবর্তী লিগ গেমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য রাখছে, যাতে সিজনের বাকি অংশে আরও পয়েন্ট সংগ্রহ করা যায়।



