মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামে রবিবার সন্ধ্যা ইফতার‑পর এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ঘটেছে। ১৫ বছর বয়সী রুবাইয়া খাতুন নিজ কক্ষে গলায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাকে স্থানীয় বামন্দি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে গিয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।
রুবাইয়া খাতুন হাড়াভাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের কন্যা এবং হাড়াভাঙ্গা ডিএইচএস সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার শিক্ষাগত প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি স্থানীয় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারে একমাত্র সন্তান হিসেবে পরিচিত। পরিবার জানায় যে রুবাইয়া সবসময় শান্ত স্বভাবের এবং কোনো পূর্বের মানসিক সমস্যার রেকর্ড নেই।
সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটায় রুবাইয়া ঘরে একা ছিলেন এবং গলায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে নিজেকে ঝুলিয়ে নেয়। প্রতিবেশীরা অস্বাভাবিক শব্দ শোনার পর দ্রুত গৃহে প্রবেশ করে এবং তাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত রুবাইয়া প্রথমে বামন্দি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা অবনতির দিকে ধাবিত হওয়ায় তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানানো হয় যে রুবাইয়ার আত্মহত্যার পেছনে প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রগুলো উল্লেখ করে যে রুবাইয়া সাম্প্রতিক সময়ে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে মানসিক চাপের শিকার ছিলেন, তবে এই তথ্য এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর রুবাইয়ার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। মেডিকেল অফিসার ডা. বি. ডি. দাস জানান, রুবাইয়া হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তেই শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তৎক্ষণাৎ মৃত ঘোষণা করা হয়। রোগীর দেহে কোনো শারীরিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা আত্মহত্যার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গাংনী থানা থেকে অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জানান, তারা তৎক্ষণাৎ现场ে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তিনি উল্লেখ করেন যে আত্মহত্যার সঠিক কারণ নিশ্চিত করার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা এবং মৃতদেহের অবস্থা বিশ্লেষণ করা হবে। এছাড়া, রুবাইয়ার পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ আত্মহত্যা ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব হল মৃতদেহের টিস্যু পরীক্ষা, ঘরের নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড সংগ্রহ এবং রুবাইয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করা। তদন্ত চলাকালীন সময়ে গৃহে কোনো অপ্রত্যাশিত বস্তু বা হুমকি নির্দেশক চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
অপমৃত্যু মামলাটি গাংনী থানা কর্তৃক দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে উপস্থাপন করা হবে। মামলায় রুবাইয়ার আত্মহত্যা স্বীকারোক্তি, পারিবারিক পটভূমি এবং সম্ভাব্য মানসিক চাপের কারণগুলোকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। আইনগত দিক থেকে, আত্মহত্যা সংক্রান্ত মামলায় পরিবারকে সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ প্রদান করা বাধ্যতামূলক, যা স্থানীয় সামাজিক সেবা বিভাগ ইতিমধ্যে শুরু করেছে।
এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার প্রতিবেদন করার সময় পাঠকদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আত্মহত্যা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের সময় অতিরিক্ত বিশদ বিবরণ এড়িয়ে চলা, এবং প্রয়োজনে মানসিক সহায়তা কেন্দ্রের নম্বর প্রদান করা উচিত। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে জরুরি হেল্পলাইন চালু করেছে, যাতে একই রকম সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, রুবাইয়া খাতুনের অকাল মৃত্যু গাংনী উপজেলার সামাজিক পরিবেশে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ উন্মোচন করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য পরামর্শদাতা সেবা প্রদান করা অপরিহার্য।



