ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান আইজিপি আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, নিষিদ্ধ দলের কোনো তৎপরতা চলতে দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আইনগত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মন্তব্যটি দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে।
আইজিপি বলেন, নিষিদ্ধ দলকে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ, প্রচার বা জনসাধারণের সমর্থন সংগ্রহে অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম করা হবে না। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে।
বৈধ নিষেধাজ্ঞা পূর্বে সরকার ও নির্বাচনী কমিশনের আদেশে আরোপিত হয়েছিল। নিষিদ্ধ দলকে জনসাধারণের সমাবেশে অংশগ্রহণ, প্রচারমূলক উপকরণ বিতরণ এবং রাজনৈতিক সমর্থন গড়ে তোলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইজিপি উল্লেখ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
আইজিপি আরও জানান, পুলিশ সংস্থা ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ দলের সম্ভাব্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে সন্দেহজনক সমাবেশ ও প্রচারমূলক কার্যকলাপের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো লঙ্ঘন সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
নিষিদ্ধ দলের প্রতিনিধিরা পূর্বে এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে অভিযোগ তুলেছেন। তারা দাবি করেন, দলকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আইজিপি এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, আইনসঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই।
পুলিশের এই অবস্থান দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সামগ্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পূর্বে একই রকম নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইজিপি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো দেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
আইজিপি জানান, নিষিদ্ধ দলের কোনো তৎপরতা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন ভঙ্গের কোনো সুযোগ থাকবে না। এই নীতি দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
বৈধ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আদালতও কঠোর রায় প্রদান করেছে। পূর্বে নিষিদ্ধ দলের সমাবেশে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইজিপি উল্লেখ করেন, এই রায়গুলো আইনগত ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করছেন। তারা অনুমান করছেন, নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা বাড়লে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমতে পারে। তবে আইজিপি স্পষ্ট করে বলেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে না, বরং আইন মেনে চলা নিশ্চিত করে।
আইজিপি শেষ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সকল সংস্থা একসাথে কাজ করবে। তিনি সকল নাগরিককে আইন মেনে চলতে এবং কোনো অবৈধ কার্যক্রমে অংশ না নিতে আহ্বান জানান। এই নীতি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।



