লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হল-এ রবিবার রাত ৭৯তম BAFTA চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অ্যালান কামিং হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠানটি সারা যুক্তরাজ্য জুড়ে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বোচ্চ সম্মানগুলো নির্ধারিত হয়। এই বছরের নোমিনেশন তালিকায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু নামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ রাত তৈরি করে।
নোমিনেশন সংখ্যা অনুযায়ী সর্বোচ্চ স্থান পায় পল থমাস অ্যান্ডারসনের রাজনৈতিক থ্রিলার “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার” ১৪টি স্বীকৃতি পেয়ে। রায়ান কুগলারের ভ্যাম্পায়ার থিমের ছবি “সিনার্স” ১৩টি নোমিনেশন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকে। চ্লোয়ে ঝাওয়ের শেক্সপিয়ার-অনুপ্রাণিত নাটক “হ্যামনেট” এবং জোশ সাফডির পিং-পং থ্রিলার “মার্টি সুপ্রিম” প্রত্যেকটি ১১টি করে স্বীকৃতি পায়।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নোমিনেশনে রয়েছে জোয়াকিম ত্রিয়ারের ড্রামা “সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু” এবং গিলারমো দেল টোরোর গথিক মহাকাব্য “ফ্রাঙ্কেনস্টাইন”, দুটোই আটটি করে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইয়র্গোস ল্যান্থিমোসের কালো রসিকতা ভরা “বুগোনিয়া” এবং কির্ক জোন্সের টুরেট সিনড্রোম নিয়ে সামাজিক বার্তা দেয়া ড্রামা “আই সোয়ার” প্রত্যেকটি পাঁচটি করে নোমিনেশন পেয়েছে।
অভিনয় বিভাগে প্রথমবারের মতো রবার্ট আরামায়ো, ওডেসা আজিয়ন, রোজ বায়ার্ন, চেজ ইনফিনিটি, মাইকেল বি. জর্ডান, ইনগা ইবসডটার লিল্লিয়াস, স্টেলান স্কার্সগার্ড এবং টেয়ানা টেলর নামগুলো নোমিনেটেড হয়। এই নতুন মুখগুলোকে শিল্পের ভবিষ্যৎ হিসেবে গর্বের সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়।
নোমিনেশন রেকর্ডের দিক থেকে চ্লোয়ে ঝাওয়ের “হ্যামনেট” সর্বাধিক নোমিনেশন পাওয়া নারী পরিচালকের চলচ্চিত্র হিসেবে গর্ব করে, আর রায়ান কুগলারের “সিনার্স” কালো পরিচালকের সর্বোচ্চ নোমিনেশন অর্জনকারী চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়। এই রেকর্ডগুলো শিল্পের বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির দিকে অগ্রগতি নির্দেশ করে।
বিজয়ী তালিকায় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পায় “কনক্লেভ” যা সর্বোত্তম চলচ্চিত্রের শিরোপা জিতেছে। একই সঙ্গে “দ্য ব্রুটালিস্ট” সর্বোত্তম পরিচালক ও সর্বোত্তম অভিনেতা বিভাগে জয়ী হয়ে মোট চারটি পুরস্কার নিয়ে গর্বিত হয়। উভয় চলচ্চিত্রই তাদের অনন্য শৈলী ও গভীর থিমের জন্য সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
অন্যান্য বিভাগে “হ্যামনেট” এবং “মার্টি সুপ্রিম” উভয়ই উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট পুরস্কার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। তবে সকল বিজয়ীর নাম তালিকায় বোল্ড করে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে।
এই অনুষ্ঠানটি লন্ডনের রাতের আকাশকে উজ্জ্বল করে তুলেছে, যেখানে সেলিব্রিটিদের গ্ল্যামার ও শিল্পের গর্ব একসাথে মিলেছে। রয়্যাল ফেস্টিভাল হলের মঞ্চে আলো, সঙ্গীত ও চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের সমন্বয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
বছরের শেষের দিকে চলচ্চিত্র শিল্পের এই বড় ইভেন্টটি নতুন প্রবণতা ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোমিনেশন ও বিজয়ীর তালিকায় দেখা যায় যে স্বাধীন চলচ্চিত্র, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সামাজিক বিষয়বস্তুতে আগ্রহ বাড়ছে।
বিজয়ী চলচ্চিত্রগুলো পরবর্তী মাসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাদের গ্লোবাল দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়াবে। বিশেষ করে “কনক্লেভ” ও “দ্য ব্রুটালিস্ট” ইতিমধ্যে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমন্ত্রণ পেয়েছে।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এই পুরস্কার অনুষ্ঠানটি শুধু বিনোদন নয়, বরং শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে জানার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাই পরবর্তী সপ্তাহে প্রকাশিত বিশদ বিশ্লেষণ ও রিভিউগুলোতে নজর রাখা উচিত।
শেষে, যদি আপনি নতুন চলচ্চিত্র অনুসন্ধানে আগ্রহী হন, তবে এই বিজয়ী ও নোমিনেটেড ছবিগুলোকে আপনার দেখার তালিকায় যুক্ত করুন। বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় থিম ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্বলিত চলচ্চিত্রগুলো আপনার সিনেমা অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে।



