আজ বিকেল প্রায় ৪:৩০ টায় চাকারিয়া উপজেলায় বদ্রাখালী গ্রামে কক্সবাজার-২ (মহেশখালি‑কুতুবদিয়া) সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফারিদের কনভয়ের গাড়ি এক শিশুকে ধাক্কা মারায়। গাড়ি চলার পথে ৮ বছর বয়সী মো. খালেদ বিন ওয়ালিদ রাস্তায় পারাপার করার সময় আঘাত পায় এবং মৃত্যুবরণ করে।
খালেদের বাবা-ই মা হলেন আমানুল ইসলাম ও সুমাইয়া, যারা কাবিরের ঘাট, টেকচিপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। শিশুটি স্থানীয় মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছিল এবং পার্শ্ববর্তী দোকানে যাওয়ার জন্য রাস্তায় পা বাড়িয়ে গিয়েছিল।
ঘটনা ঘটার স্থানটি বদ্রাখালী ফাজিল মাদ্রাসার কাছাকাছি, যেখানে গাড়ি চলাচল বেশ ব্যস্ত। গাড়ি থেমে না গিয়ে শিশুটির উপর আঘাত হানার পর তা সঙ্গে সঙ্গে বদ্রাখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকগণ দ্রুত শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ায় মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
সাক্ষীরা জানান, শিশুটি দোকানে যাওয়ার পথে রাস্তাটি পার হচ্ছিল এবং গাড়ির তৃতীয় গাড়ি তার উপর আঘাত করে। গাড়িটি এমপি-র কনভয়ের অংশ হলেও, তা সরাসরি সংসদ সদস্যের নিজস্ব গাড়ি নয়, কনভয়ের অন্য একটি গাড়ি ছিল।
চাকারিয়া থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোহাম্মদ মোনির হোসেনের মতে, গাড়িটি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ভাড়া নেওয়া ছিল এবং গাড়িতে কোনো যাত্রী ছিল না। গাড়ি চালক ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়।
আঘাতের পর, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভিড় গাড়িটিকে ফেরিগহাটে থামিয়ে নিয়ে গিয়ে আবার বদ্রাখালী এলাকায় ফিরিয়ে আনে এবং গাড়ির ভেতরে ক্ষতি করে। গাড়িটি ভাঙা-ফোটা অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে এমপি-র নিজস্ব গাড়ি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল।
রাত ৯ টা পর্যন্ত কোনো আইনি মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে পুলিশ গাড়িটিকে জব্দ করে রাখে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও চালকের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ফারিদ ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, এটি একটি “খুবই দুঃখজনক” ঘটনা এবং তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাড়িটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের জন্য ভাড়া নেওয়া ছিল এবং গাড়িতে কোনো যাত্রী না থাকায় কোনো অন্যায় উদ্দেশ্য ছিল না।
গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ পলায়ন করে, তাই এখন পর্যন্ত তার সনাক্তকরণে অগ্রগতি হয়নি। পুলিশ চালকের সন্ধানে ক্যামেরা ফুটেজ ও সাক্ষীর বিবরণ ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, গাড়িটি কনভয়ের তৃতীয় গাড়ি হওয়ায় গতি ও গাড়ির অবস্থান নির্ধারণের জন্য রেকর্ডিং ডিভাইসের ডেটা সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, রাস্তায় গতি সীমা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও পর্যালোচনা করা হবে।
আইনি দিক থেকে, শিশুর মৃত্যুর জন্য গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় আইন অনুসারে, অযথা গতি বাড়িয়ে চলা বা অপ্রয়োজনীয় গাড়ি চালনা করে কোনো ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটলে দায়িত্বশীল ব্যক্তি কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
পুলিশের মতে, গাড়ি জব্দের পর প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী মামলাটি চৌদ্দ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে এধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনগুলো গাড়ি চালকদের জন্য ট্রাফিক শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং শিশুদের নিরাপদ পারাপারের জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



