সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী রবিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট, সেগুনবাগিচা-তে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই সম্মেলনটি দলীয় অবস্থান জানাতে আয়োজন করা হয়।
হায়দার জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সরাসরি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে একটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ চালু করা হয়েছে। তার মতে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় পার্টির ভোটের হার এক শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা এবং একটিও আসন জয় করা থেকে বাধা দেওয়া।
এ জন্য একটি বিশেষ ‘নীলনকশা’ তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি বলেন, যার অধীনে পার্টির ঐতিহাসিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতে প্রার্থীদের তৃতীয় স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদুপরি, অনেক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
হায়দার অতীতের নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান ফলাফলের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের নির্বাচনে পার্টি যে ভোটের হার ও আসন সংখ্যা পেয়েছিল, তার তুলনায় এইবারের ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তা পরিকল্পিত হস্তক্ষেপের ফলাফল।
জাতীয় পার্টি যদিও নির্বাচনের ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, তবুও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানাতে পার্টি থেকে একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। হায়দার বলেন, নতুন সরকারকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। হায়দার এই ঘটনাকে ‘মব অ্যাটাক’ বলে অভিহিত করে, জড়িতদের পরিচয় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সরকারীভাবে ঘোষিত হয়েছে, যেখানে জাতীয় পার্টি মোট ভোটের অল্প শতাংশই পেয়েছে এবং কোনো আসন জিততে পারেনি। এই ফলাফলকে নিয়ে পার্টি অভ্যন্তরে বিশ্লেষণ ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছিল, তবে জাতীয় পার্টি এই আলোচনাকে যথেষ্ট না বলে দাবি করে। হায়দার উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে পার্টি আইনি পথে পদক্ষেপ নিতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, জাতীয় পার্টি যদি আইনি চ্যালেঞ্জের পথে যায়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করতে পারে। অন্যদিকে, পার্টি নতুন জোট গঠন বা বিদ্যমান জোটের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, যাতে পরবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বাড়ানো যায়।
নতুন সরকার গঠনের পর সংসদীয় কার্যক্রম শীঘ্রই শুরু হবে, এবং জাতীয় পার্টি তার অবস্থান পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। হায়দার শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সকল দলকে সমান সুযোগ ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায়।



