ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ রবিবার ঢাকার আশকোনা হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে হজ গাইডদের জন্য শীর্ষ তিনজনকে পুরস্কার প্রদান করার ঘোষণা দেন। তিনি পাঁচ লাখ, তিন লাখ ও দুই লাখ টাকার নগদ পুরস্কার যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের গাইডদের অর্পণ করবেন বলে জানিয়ে দেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি হজ গাইডদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ই আয়োজন করেছে এবং হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অনলাইন মাধ্যমে মন্ত্রী উপস্থিত হয়ে গাইডদের সেবা মানোন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি হজযাত্রীদের আল্লাহর মেহমান বলে উল্লেখ করে, তাদের সেবা করা এক ধরনের সম্মান ও সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন। মন্ত্রী গাইডদেরকে মাতাপিতার মতো হজযাত্রীদের যত্ন নিতে আহ্বান জানান।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, হজযাত্রীদের সন্তুষ্ট করা হলে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন, আর যথাযথ সেবা না দিলে শাস্তি হবে। তিনি গাইডদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা করতে এবং কোনো ধরণের অবহেলা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। সেবা মানের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তিনি গাইডদেরকে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও তদারকি করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
শ্রদ্ধা ও দায়িত্বের সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মন্ত্রী শৈথিল্য বা উদাসীনতা পরিহার করার আহ্বান জানান। তিনি হজ গাইডদেরকে হজের সময় সঠিক নির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করতে সতর্ক করেন, যাতে যাত্রীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন। এই নির্দেশনা গাইডদের পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখও করা হয়। তিনি জানান, বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। এই সরকার অধীনে ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠু, সাবলীল ও মসৃণ হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংশ্লিষ্টকে শতভাগ আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে হজ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল হক, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেন এবং হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। তারা মন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে গাইডদের প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার হজ সেবার মানোন্নয়ন এবং গাইডদের কাজের স্বীকৃতি বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে, হজ গাইডদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ও প্রশিক্ষণ সুযোগ প্রদান করে হজ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে হজ সেবা সম্পর্কিত নীতি ও পরিকল্পনা গঠনে এই ধরনের উদ্যোগের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।



