২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার একত্রিত হন। দুজনেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
ড. খলিলুর রহমান হাইকমিশনারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে, দুদেশের কূটনৈতিক বন্ধনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয় কূটনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি।
মিটিংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি ও ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করা হয়। দুই পক্ষই উল্লেখ করেন, পূর্বের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে এখন সম্পর্কের একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আরও উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।
ইমরান হায়দার শিক্ষা, অবকাঠামো সংযোগ, বাণিজ্য, কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সেক্টরগুলোতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ড. খলিলুর রহমান বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে, তবে আরও গভীর ও বিস্তৃত সহযোগিতার জন্য নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি ভবিষ্যতে সম্পর্ককে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
দুজনেই আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ উভয় দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।
শিক্ষা ও বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে, উভয় পক্ষই এই সেক্টরে সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ছাত্র বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং পণ্য রপ্তানি-আমদানি সহজতর করার জন্য নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়।
এই আলোচনার পরপরই, উভয় দেশকে লক্ষ্য করে যৌথ প্রকল্পের খসড়া তৈরি, ব্যবসায়িক মিশন এবং প্রযুক্তি বিনিময় কর্মসূচি চালু করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই ধরণের কূটনৈতিক সংলাপ ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সংলাপকে কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে। উভয় দেশের নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিটিংয়ের সমাপ্তিতে, ড. খলিলুর রহমান ও ইমরান হায়দার উভয়ই ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, নিয়মিত সংলাপ এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি reaffirm করেন।



