ঢাকার শহীদ ফারুখ সড়ক, রমজান ভাইয়ের গলি এবং পশ্চিম যাত্রাবাড়ী এলাকায় আগামীকাল সোমবার গ্যাস সরবরাহে পাঁচ ঘণ্টা বিরতি থাকবে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি রোববার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সমস্যা দেখা দেবে এবং গ্রাহকদের গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে অক্ষমতা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা নিয়মিতভাবে পুরনো পাইপলাইন পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শহীদ ফারুখ সড়ক, রমজান ভাইয়ের গলি এবং পশ্চিম যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্বল্প চাপের মূল সমস্যার সমাধানে বিশেষভাবে পাইপলাইন প্রতিস্থাপন করা হবে। কাজের সময় গ্যাসের প্রবাহে অস্থায়ী বাধা আসবে, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে।
তিতাস গ্যাসের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং চাপজনিত সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। সংস্থা গ্রাহকদের এই অস্থায়ী অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং দ্রুত কাজ শেষ করে সেবা পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
গ্যাস সরবরাহের এই অল্প সময়ের বন্ধের ফলে গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা গ্যাস চুলা, গরম পানির যন্ত্র এবং গ্যাস হিটার ব্যবহার করতে পারবে না। বিশেষ করে রমজান মাসের শেষের দিকে এই সময়ে খাবার প্রস্তুতিতে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে। গৃহস্থালি স্তরে গ্যাসের অপ্রাপ্যতা খাবার প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারে।
শহীদ ফারুখ সড়ক ও রমজান ভাইয়ের গলিতে অবস্থিত রেস্টুরেন্ট, ফাস্ট ফুড স্টল এবং ক্যাফে গুলোও সরাসরি প্রভাবিত হবে। গ্যাস চুলা ও গ্রিলের ব্যবহার না হওয়ায় খাবার প্রস্তুতিতে বাধা আসবে, ফলে বিক্রয় হ্রাস এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিতে প্রভাব পড়তে পারে। কিছু ব্যবসা সাময়িকভাবে ইলেকট্রিক হিটার বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ছোট শিল্প ইউনিট এবং বাণিজ্যিক কর্মশালাগুলোও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সময় উৎপাদন লাইন থেমে যাবে, যা অল্প সময়ের মধ্যে অর্ডার পূরণে বিলম্ব ঘটাতে পারে। এই ধরনের অস্থায়ী বন্ধের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে এবং গ্রাহকদের কাছে ডেলিভারির সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহের স্বল্পমেয়াদী বাধা গ্রাহকের চাহিদা ও সরবরাহের সাময়িক অমিল সৃষ্টি করে। যদিও পাঁচ ঘণ্টার বন্ধ দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি না হলেও, রেস্টুরেন্ট ও ছোট শিল্পের জন্য তা নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়লে তেল ও বিদ্যুৎ বাজারে সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মূল্য পরিবর্তনের সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলতে পারে।
তিতাস গ্যাসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে গ্যাস নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে বলে আশা করা যায়। নিয়মিত পাইপলাইন প্রতিস্থাপন ও আপগ্রেডের মাধ্যমে স্বল্প চাপের সমস্যার পুনরাবৃত্তি কমে যাবে এবং গ্রাহকের সেবা মান উন্নত হবে। তবে একই সময়ে পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে জানিয়ে গ্রাহকদের প্রস্তুত করার ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আগামীকাল নির্ধারিত গ্যাস বন্ধের সময়কাল সীমিত হলেও, গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক সেক্টরে তাৎক্ষণিক প্রভাব স্পষ্ট। গ্রাহকদের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো অস্থায়ী বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে ক্ষতি কমাতে পারবে। তিতাস গ্যাসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সফল সমাপ্তি দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং বাজারে আস্থার পুনর্গঠন ঘটাবে।
এই রকম রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে গ্যাস সংস্থাগুলোকে পরিকল্পনা ও যোগাযোগে আরও সক্রিয় হতে হবে। সময়মতো তথ্য প্রদান এবং গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করলে গ্যাস সরবরাহের অস্থায়ী বন্ধের ফলে সৃষ্ট ব্যবসায়িক ঝুঁকি কমবে। তিতাস গ্যাসের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে গ্যাস নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।



