23.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসিরাজগঞ্জে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি সমর্থকদের দ্বন্দ্বে মসজিদে তালা, পুলিশ খুলে দিল

সিরাজগঞ্জে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি সমর্থকদের দ্বন্দ্বে মসজিদে তালা, পুলিশ খুলে দিল

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় বাগবাটি ইউনিয়নের পেচিবাড়ি জামে মসজিদে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের ফলে মসজিদে তালা বসানো হয় এবং পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তালা ভেঙে মসজিদ খুলে দেয়।

রোববার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে গিয়েছিলেন গ্রামের বাসিন্দারা দরজায় তালা লাগানো দেখতে পান। তালা বন্ধ থাকায় তারা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বাইরের মাঠে নামাজ সম্পন্ন করে। এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

দুপুরে সদর থানা পুলিশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা একত্রে মসজিদে উপস্থিত হন। উপস্থিতদের তত্ত্বাবধানে তালা ভেঙে মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হয় এবং নামাজের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হয়।

বাগবাটি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোকাদ্দেস আলী জানান, ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াত-এ-ইসলামি এককভাবে মসজিদ কমিটি গঠন করে এবং তাদের সমর্থিত একজনকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ করে। নতুন ইমামের কেরাত অনেকেরই পছন্দের বাইরে।

সদস্যের মতে, সংসদ নির্বাচনের পর গ্রামের লোকজন ইমাম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেয়। ফলে মসজিদে দু’জন ইমাম একসাথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়; একজন সকাল‑বিকালের নামাজের দায়িত্বে, অন্যজন বিকাল‑রাতের নামাজের দায়িত্বে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টার এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন, তবে সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে একমত হন না। মতবিরোধের ফলে এলাকায় সামান্য মারামারি ঘটে।

শনি রাতের পর গ্রামের লোকজনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অন্য একজন ইমামের তত্ত্বাবধানে মাগরিব ও এশার নামাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে পরের দিন ভোরের ফজরের নামাজে ফিরে এসে দেখা যায়, জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকরা মসজিদে তালা বসিয়েছে।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থক এবং তালা বসানো কারা তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি সমর্থকদের অস্বীকৃতির ফলে ইমাম আব্দুল হাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের বিবরণ অনুযায়ী তালা ভাঙার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।

পুলিশের হস্তক্ষেপের পর মসজিদে স্বাভাবিক নামাজের ধারাবাহিকতা পুনরায় শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এধরনের সংঘাত রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কামনা করেন।

এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ইমাম নিয়োগ সংক্রান্ত মতবিরোধের ফলে সৃষ্ট এবং মসজিদে তালা বসানো একটি অপরাধমূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনগত দিক থেকে তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments