সৌদি প্রো লিগের আল-নাসরে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গত সপ্তাহে আবার মাঠে নামেন এবং দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। একই সময়ে তিনি দল ছাড়ার গুজবকে স্পষ্টভাবে খারিজ করে বললেন, তিনি এখানে খুশি এবং ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন নেই।
রোনালদোর ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সাম্প্রতিককালে মিডিয়ায় আলোচিত হয়। পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম (PIF) পরিচালিত আল-নাসরের অপ্রতুল কার্যক্রম এবং ক্লাবের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রোনালদো অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, PIF-এর আরবের অন্যান্য ক্লাব, যেমন আল-হিলালকে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ ও নতুন খেলোয়াড় কেনার খবর তাকে বিরক্ত করে। এই পরিস্থিতি তাকে কিছু ম্যাচে আল-রিয়াদ ও আল-ইত্তিহাদের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর দিকে নিয়ে যায়।
গত সপ্তাহের লিগ ম্যাচে রোনালদো অধিনায়ক হিসেবে আল-ফাতেহের বিরুদ্ধে মাঠে উপস্থিত হন। তার নেতৃত্বে দল ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয় এবং রোনালদো নিজেরই একটি গোল করে স্কোরে যোগ দেন। এই জয়টি তার ক্লাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি দলকে টেবিলে উপরে উঠতে সাহায্য করে।
শুক্রবারের ম্যাচে আল-হাজেমের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো আবার দু’গোলের হ্যাটট্রিকের মতো পারফরম্যান্স দেখান। আল-নাসর ৪-০ বড় জয় অর্জন করে এবং রোনালদোর দু’গোল দলকে দ্রুত জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের পর তিনি দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে আরও বেশি গোল করা সম্ভব ছিল।
রোনালদো বলেন, “আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, তবে আমাদের আরও বেশি গোল করা উচিত ছিল। তবু জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি যোগ করেন, “গোল পাওয়া এবং দলকে জয় এনে দেওয়া দু’ইই আমাকে আনন্দিত করেছে।” তার এই মন্তব্যগুলো দলের আক্রমণাত্মক খেলায় আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয়।
সৌদি আরবের পরিবেশ ও স্বাগত সম্পর্কে রোনালদো ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই দেশ আমাকে, আমার পরিবারকে এবং বন্ধুদেরকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছে। এখানে আমি ভালো আছি এবং এখানেই থাকতে চাই।” তার এই কথা ক্লাবের ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া জাগায়।
ক্রীড়া জগতে রোনালদোর ক্যারিয়ার গৌরবময়; এখন পর্যন্ত তিনি ক্লাব ও জাতীয় দলে মিলিয়ে ৯৬৪টি গোল করেছেন। বর্তমান মৌসুমে তিনি ইতিমধ্যে ২০টি গোলের তালিকায় রয়েছেন, যা তার অব্যাহত আক্রমণাত্মক শক্তি প্রমাণ করে। তার বয়স ৪১ হলেও তিনি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে পারফরম্যান্স বজায় রেখেছেন।
রোনালদোর এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পেছনে তার স্বতন্ত্র প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং শারীরিক প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি নিয়মিতভাবে শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখতে কঠোর রুটিন অনুসরণ করেন, যা তাকে বয়সের সীমা অতিক্রম করে মাঠে সক্রিয় রাখে।
ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলাল, যেটি PIF-এর তীব্র বিনিয়োগের ফলে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, রোনালদোর অসন্তোষের মূল কারণগুলোর একটি। আল-হিলালের ক্রমবর্ধমান শক্তি আল-নাসরের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা রোনালদোর ক্লাব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।
পূর্বে রোনালদো আল-রিয়াদ ও আল-ইত্তিহাদের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকৃতি জানান, যা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রকাশ ঘটায়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে ফিরে এসে দলকে জয় এনে দিলেন, যা তার পেশাদারিত্বের পরিচয়।
মেজর সকার লিগে যোগদানের গুজবও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে, তবে রোনালদো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে এই গুজবগুলো কেবলই গুজব। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “আমি এখানে খুশি এবং আমার লক্ষ্য এখানে সেরা পারফরম্যান্স দেখানো।” এই বক্তব্য তার বর্তমান অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
আল-নাসর পরের সপ্তাহে আবার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যেখানে রোনালদোর নেতৃত্বে দলকে আরও জয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে। তার উপস্থিতি এবং গোল করার ক্ষমতা দলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



