নোয়াখালির বেগমগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের মুনশি বারি সেতুর নিকটবর্তী প্যাডি মাঠে আজ বিকেলে ১৭ বছর বয়সী অটো‑রিকশা চালক এক কিশোরের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহটি স্থানীয় কৃষক কাজের সময় পেয়ে পুলিশকে জানায়।
পুলিশের মতে, মৃতদেহটি শনাক্ত করা হয়েছে মো. আবদুল আহাদ নামে, যিনি ১৭ বছর বয়সী। তদন্তকারী ইন্সপেক্টর মো. হাবিবুর রহমান জানান, দেহটি পাওয়া যায় মুখে টেপ বাঁধা অবস্থায়, যা হিংসাত্মক ঘটনার ইঙ্গিত দেয়।
আহাদ তার মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকে মাতৃদাদী-দাদীর সঙ্গে কুতুবপুরে বসবাস করছিলেন। দুই বছর ধরে তিনি ব্যাটারি চালিত অটো‑রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ মেটাচ্ছিলেন। তার কাজের গতি ও নির্ভরশীলতা স্থানীয় মানুষদের কাছে পরিচিত ছিল।
সপ্তাহের শনি রাতে প্রায় রাত ৯টায় আহাদ তার অটো‑রিকশা নিয়ে বেরিয়ে যান, তবে কোনো সময় ফিরে আসেন না। তার অটো‑রিকশা ও নিজে দুটোই অদৃশ্য হয়ে যায়, যা পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
পরের দিন বিকেলে, মাঠে কাজ করছিলেন এক কৃষক, যিনি হঠাৎ করে মাটিতে অস্বাভাবিক কিছু দেখেন। তদন্তে জানা যায়, তিনি দেহটি তুলে নিয়ে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে জানিয়ে দেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানা থেকে দেহটি উদ্ধার করে নোয়াখালি জেনারেল হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয় অটো‑রিকশা চালকের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দেহটি শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলা হয়েছে এবং অপরাধীরা অটো‑রিকশা নিয়ে পালিয়ে গেছে। দেহে টেপের চিহ্ন ও শ্বাসরুদ্ধের লক্ষণগুলোই এই ধারণা দেয়।
পুলিশের সূত্রে সন্দেহ করা হচ্ছে, কিছু দস্যু আহাদের অটো‑রিকশা চুরি করার সময় তাকে হত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত গাড়ির অবস্থান অজানা, তবে দস্যুদের পিছু নেওয়ার জন্য অনুসন্ধান চালু রয়েছে।
অধিক তদন্তে, পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম সংগ্রহ করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) ইমরান জানান, “আমরা সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তালিকা পেয়েছি এবং তদন্তের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে।
পুলিশ জনগণকে আহ্বান জানিয়ে রেখেছে, যদি কেউ কোনো তথ্য জানে তবে তা দ্রুত জানাতে। মামলাটির সমাধান ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।



