রোববার ঢাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা, বাংলাদেশ সরকারকে নতুন সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী মনোভাব নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর এই বক্তব্য দেন। মিটিংটি দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাতে দু’পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বিষয়টির গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
সভায় প্রণয় ভার্মা উল্লেখ করেন যে, ভারত তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশের নতুন শাসন কাঠামোর সাথে সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দু’দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উভয় পক্ষের ইচ্ছা রয়েছে। পূর্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্তরের আলোচনায় এই দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এখন নতুন সরকার গঠনের পর এই ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের জন্য কাঠামোগত পদক্ষেপের প্রয়োজন।
ভার্মা বলেন, “ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী মনোভাব নিয়ে সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করা আমাদের যৌথ লক্ষ্য।” তিনি এই ধারণা তুলে ধরেন যে, দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগগুলোকে কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিনিময়ে নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। এ ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এই মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা এবং শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার অংশগ্রহণ। মোদীর পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠি ও শুভেচ্ছা বার্তা, নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে দু’দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই বার্তা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক বন্ধনকে পুনরায় জোরদার করার সংকেত দিয়েছে। তাই ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রণয় ভার্মা উল্লেখ করেন যে, রোববারের সৌজন্য সাক্ষাৎ তার পূর্ববর্তী প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা, যেখানে তিনি বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের মিটিংগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কৌশলগত দিকগুলো পরিষ্কার করতে সহায়ক। ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ধরনের সংলাপের মাধ্যমে উভয় দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে।
ভার্মা পাশাপাশি উল্লেখ করেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোকে পুনরায় মূল্যায়ন করে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো, জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ-ভারত সড়ক সংযোগ (BBIN) প্রকল্প এবং পারস্পরিক বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগের মতো উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করা হবে। এছাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিময় প্রোগ্রাম বাড়িয়ে দু’দেশের মানবসম্পদকে সমৃদ্ধ করা লক্ষ্য।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে বাংলাদেশ সরকার উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে বলেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, নতুন সরকার গঠনের পর দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপ দ্রুত গতি পাবে। বাংলাদেশ সরকারও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিধি বিস্তৃত করতে সহায়ক হবে।
প্রণয় ভার্মা শেষ করে বলেন, ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য সুবিধাজনক পরিবহন, বাণিজ্যিক লেনদেন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সহজতর করা হবে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং একসাথে বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দু’দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, রোববারের মিটিংটি নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে পুনরায় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রণয় ভার্মার এই ইতিবাচক সুরের বার্তা, দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। উভয় দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় এই দিকনির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। শেষ পর্যন্ত, এই সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



