বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) ২০২৪ আর্থিক বছরের অডিটেড হিসাবপত্র অনুমোদন করেছে এবং এতে মোট পাঁচ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থের সূচনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জরুরি নির্বাহী কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়, যা অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এবং সভাপতি তাবিথ আওয়াল থাইল্যান্ড থেকে নেতৃত্ব দেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪ সালের হিসাব যাচাই করে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা।
বৈঠকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সব সদস্যের অংশগ্রহণ সহজ হয় এবং তাবিথ আওয়াল বৈঠকের শুরুর সময় সকলকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। বৈঠকে অডিটেড রিপোর্টের প্রতিটি পৃষ্ঠার বিশদ পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সম্মত হন যে রিপোর্টটি যথাযথভাবে প্রস্তুত হয়েছে। এরপর রিপোর্টটি কংগ্রেসে উপস্থাপনের জন্য অনুমোদিত হয়, যা ফিফার নির্দেশনা অনুসারে বাধ্যতামূলক।
বিএফএফের ২০২৪ সালের মোট আয় ৩৮ কোটি টাকা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে ব্যয় প্রায় ৩৩ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, ফলে শুদ্ধ লাভের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা হয়েছে। এই আর্থিক ফলাফল ফেডারেশনের সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য ভিত্তি সরবরাহ করে।
অতীতের আর্থিক অবস্থা এখনও সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠেনি; ২০২৩ সালের অডিটেড হিসাবের ভিত্তিতে ফেডারেশনকে উনিশ কোটি টাকার ঘাটতি বহন করতে হয়েছে। এই ঘাটতি পূর্বের বছরের ব্যয় ও আয়ের পার্থক্য থেকে উদ্ভূত এবং বর্তমান বছরের অতিরিক্ত অর্থের মাধ্যমে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে সম্পূর্ণ সমন্বয় অর্জনের জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়ে গেছে।
বিএফএফের আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং বকেয়া অর্থ সংগ্রহে ত্বরান্বিত করতে একটি চার সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ২০২৪ এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোর বকেয়া পাওনা সংগ্রহের দায়িত্ব পাবে। তাদের প্রধান কাজ হল বকেয়া রসিদের তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কমিটির গঠন অনুসারে, প্রায় ছয় কোটি টাকার বকেয়া দুইটি কোম্পানি থেকে সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে, যাদের সঙ্গে ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান ও ফাহাদ করিমের সংযোগ রয়েছে। এই কোম্পানিগুলো পূর্বে ফেডারেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ার ফলে ফেডারেশনের নগদ প্রবাহে প্রভাব পড়েছে এবং তা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
বিএফএফের সভাপতি তাবিথ আওয়াল উল্লেখ করেন যে, বকেয়া সংগ্রহের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন যে, এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ফেডারেশনের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য তহবিল নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বিএফএফের আর্থিক প্রতিবেদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পরবর্তী কংগ্রেসে হবে, যেখানে ফিফার নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে সব হিসাবের চূড়ান্ত স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। কংগ্রেসের মাধ্যমে অতিরিক্ত তহবিলের ব্যবহার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ বাজেটের কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া ফেডারেশনের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৪ সালের আর্থিক ফলাফল ফেডারেশনের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনা নির্দেশ করে, তবে পূর্বের ঘাটতি এবং বকেয়া সংগ্রহের কাজ এখনও অবশিষ্ট। ফেডারেশন এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে কার্যকর করে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য এই ধাপগুলোকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।



