২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে সেনাসদর থেকে একটি আদেশ জারি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ব্যাপক রদবদল কার্যকর করা হয়েছে। এই আদেশের মাধ্যমে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদোন্নতি, বদলি ও নতুন দায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা নীতি ও সামরিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আদেশে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ (Chief of General Staff) হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্বে তিনি আর্টডকের জিওসি (General Officer Commanding) পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার সামরিক অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণমূলক কাজের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাছাই করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তিনি এখন দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে সেনাবাহিনীর স্বার্থ উপস্থাপন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি পূর্বে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে কাজ করছিলেন এবং এখন সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কৌশলগত পরিকল্পনা ও সমন্বয় দায়িত্বে থাকবেন।
মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫তম পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ ও সঞ্চালন কার্যক্রম তদারকি করবেন।
ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের পূর্বের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তার নতুন দায়িত্বে তিনি ডিভিশনের ত্রৈমাসিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করবেন।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে। উচ্চকমিশনে তার কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এখন সামরিক নেতৃত্বে সংযোজিত হবে।
এই রদবদলগুলোকে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়ন ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর শীর্ষে নতুন মুখের উপস্থিতি কৌশলগত পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকটবর্তী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনগুলো আসন্ন পার্লামেন্ট সেশনের নিরাপত্তা নীতি আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। ভবিষ্যতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে পদক্ষেপ নেবেন, তা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



