25 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল সিডনি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দল সিডনি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে এশিয়া নারী কাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে রবিবার দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন করে দলটি উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রস্তুতি দলকে ৩ মার্চ চীন দলের মুখোমুখি হওয়া প্রথম ম্যাচের জন্য শারীরিক ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করবে।

দলটি বৃহস্পতিবার রাতেই সিডনিতে পৌঁছায় এবং তৎক্ষণাৎ প্রশিক্ষণ শুরুর জন্য প্রস্তুত হয়। এশিয়া নারী কাপের প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ, এই পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার সঙ্গে নিজেকে তুলতে চায়। কোচ পিটার বাটলারের নেতৃত্বে দলটি প্রতিটি দিক থেকে শক্তি বাড়াতে মনোযোগী।

রবিবারের দুই ঘণ্টার সেশনে পজেশন, ট্রানজিশন এবং বল কন্ট্রোলের ওপর জোর দেওয়া হয়। শেষের দিকে ৪০ মিনিটের একটি অনুশীলন ম্যাচের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মাঠে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সুযোগ তৈরি করা হয়। প্রশিক্ষণটি ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়িয়ে খেলোয়াড়দের সহনশীলতা পরীক্ষা করে।

সকালবেলা প্রশিক্ষণ শুরু হয় তুলনামূলকভাবে শীতল আবহাওয়ায়, তবে দ্রুতই সূর্যের তাপে তাপমাত্রা বাড়ে। উষ্ণ এবং রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে খেলোয়াড়দের শ্বাস-প্রশ্বাস ও শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষা করা হয়। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার গরমের সঙ্গে তুলনায় নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে।

সুইডেন-ভিত্তিক ফরোয়ার্ড অ্যানিকা রানিয়া সিদ্দিকি প্রশিক্ষণের পর ভিডিওতে জানান যে দলটি ধীরে ধীরে এই তাপমাত্রার সঙ্গে অভ্যস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় দিন প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গিয়ে এখনো গরম হলেও আমরা প্রতিদিন আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।” তার কথায় দলের মানসিক দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়।

অ্যানিকা আরও যোগ করেন, “এখানে আবহাওয়া আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি গরম, তাই এখনও পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া বাকি।” তিনি স্বীকার করেন যে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক চ্যালেঞ্জও তীব্রতর হয়, তবে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণেই সমাধান খুঁজে পাবেন।

প্রশিক্ষণ শেষে অ্যানিকা উল্লেখ করেন যে তিনি আবার আফেইদা খন্দকারের সঙ্গে রুম শেয়ার করছেন এবং সিডনিতে একসাথে সময় কাটিয়ে দলীয় বন্ধনকে শক্তিশালী করছেন। “একসাথে থাকা এবং মজা করা আমাদের দলকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে,” তিনি আনন্দের সঙ্গে বলেন। এই ধরনের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সেশন শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের আইস বাথের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়। ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে পেশীর ক্লান্তি কমিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচলিত এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর বলে স্বীকৃত।

দুপুরের দিকে দলটি দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে জিমে শক্তি ও কন্ডিশনিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণটি শক্তি কোচ ক্যামেরন লর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, যেখানে পেশীর শক্তি, গতি এবং সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই কাঠামোগত প্রোগ্রাম দলকে শারীরিকভাবে টেকসই করে তুলবে।

বাংলাদেশের নারী দল ৩ মার্চ চীন দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যা এশিয়া নারী কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। চীন দল নয়টি বার চ্যাম্পিয়ন, তাই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। প্রস্তুতি সেশনের লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষের উচ্চমানের খেলায় টিকে থাকা এবং নিজের শক্তি প্রদর্শন করা।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণের অর্থ হল আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা। দলটি এখন পর্যন্ত যে প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতার জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে। কোচ বাটলার আশা প্রকাশ করেছেন যে দলটি সিডনির চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামবে।

সিডনিতে চলমান প্রশিক্ষণ এবং দলীয় সংহতির মাধ্যমে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পথে অগ্রসর। তাপমাত্রা যতই বাড়ুক না কেন, দলটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে, যা আসন্ন ম্যাচে ফলপ্রসূ হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments