25 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচীন রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না

চীন রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না

চীনের রাষ্ট্রদূত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মন্তব্য দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

সম্মেলনটি ঢাকা শহরের একটি সরকারি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চীনের প্রতিনিধি দলও একই স্থানে উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। পূর্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশটি স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এই নীতি এখনো অটুট রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূতও এই নীতিকে সম্মান জানিয়ে বলেছিলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অযথা হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন সবসময়ই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে।

এই বিবৃতি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় প্রকাশ পায়, যেখানে উভয় দেশই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক বিষয়গুলোতে মতবিনিময় করেছে। তবে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রশ্নটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়, চীনের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে সচেষ্ট থাকবে।

সম্মেলনের পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আগামী মাসে আবার একত্রিত হয়ে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের স্পষ্ট বক্তব্যের গুরুত্ব বাড়ে। দেশগুলো প্রায়ই বহিরাগত শক্তির প্রভাবের মুখোমুখি হয়, এবং স্বতন্ত্র নীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

চীন ও বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়ই এই সুযোগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে হবে, যাতে উভয় দেশের জনগণের উপকার হয়।

এই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বতন্ত্র অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে চীনও পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে উভয় দেশই জোর দিয়েছে, কোনো সিদ্ধান্তই একতরফা নয়, বরং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে গৃহীত হবে।

অবশেষে, চীনের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়ই ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সংলাপের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই সংলাপের ধারাবাহিকতা দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments